পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দের দাদি বলেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তাই ইসরায়েলি তদন্তের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করেন না।
বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজা সিটিতে হিন্দকে বহনকারী গাড়িতে তাদের সেনারা গুলি চালিয়েছিল। এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দেয় তারা। একই দিনে ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহতে ১৫ জন জরুরি সেবা ও ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাতেও পৃথক তদন্তের কথা জানানো হয়।
হিন্দের দাদি বলেন, তাদের বিশ্বাস, হিন্দ, তার চাচা, চাচি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বহনকারী বেসামরিক গাড়িটিকে ইচ্ছাকৃতভাবেই লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল। তিনি হিন্দ, তার ছয় স্বজন এবং তাদের উদ্ধারে যাওয়া ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের দুই কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান।
তিনি বলেন, শুধু হিন্দের জন্য নয়, গাজায় নিহত সব ফিলিস্তিনি শিশুর জন্যই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
“আমরা শুধু গাজার একটি শিশু হিন্দের নামে ন্যায়বিচার চাইছি না, গাজার সব শিশু শহীদের জন্য ন্যায়বিচার চাইছি,” বলেন তিনি।
হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনও ইসরায়েলি তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটি বলেছে, এই তদন্তকে প্রকৃত ন্যায়বিচারের পথে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
যেভাবে প্রাণ হারায় হিন্দ
হিন্দের দাদি জানান, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে পরিবারটি গাড়িতে করে অন্যত্র যাওয়ার সময় গাজা সিটির ফারেস গ্যাস স্টেশনের কাছে তাদের গাড়িতে গুলি চালানো হয়।
হিন্দের চাচাতো বোন লায়ান কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বজনদের ফোন করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা হিন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। সে জানায়, সে তখনও জীবিত আছে।
পরিবারটি ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে হিন্দকে উদ্ধারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তবে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছানোর সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে ইসরায়েলি সেনারা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা গাড়িটির ভেতর হিন্দ ও তার ছয় স্বজনের মরদেহ দেখতে পান। তাদের উদ্ধারে যাওয়া রেড ক্রিসেন্টের দুই কর্মীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
হিন্দের শেষ ফোনকলের একটি অডিও প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের কাছে ফোন করে হিন্দ সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়েছিল। কয়েক দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, হিন্দ নিহত হওয়ার সময় ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনা উপস্থিত ছিল না। তবে পরে স্বাধীন বিভিন্ন তদন্তে ভিডিও ও অডিও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলের আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির তথ্য উঠে আসে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









