ইতালির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে রেকর্ড সময় ধরে সরকার পরিচালনার মাইলফলক অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ১ হাজার ৪০০ দিনের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে।
শুক্রবার এই মাইলফলক উদ্যাপন করে মেলোনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইতালির অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করেছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেলোনি বলেন, ৮০ বছরে ৬৮টি সরকার দেখেছে ইতালি। এমন একটি দেশে তার সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্বই বড় ধরনের অর্জন। তার দাবি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ইতালি এখন আর ‘নজরদারিতে থাকা দেশ’ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
আর্থিক শৃঙ্খলায় জোর
মেলোনির সরকার ২০২২ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে সরকার স্থিতিশীল থাকার কারণে আর্থিক বাজারেও ইতালির প্রতি আস্থা বেড়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।
ইতালির সরকারি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে মেলোনি বলেন, সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার নীতি দেশটির ঋণের সুদের চাপ কমাতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, সরকারি হিসাব-নিকাশ ঠিক রাখলে সরকারের ওপর চাপ কমে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ব্যয়ের সুযোগ বাড়ে।
বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, মেলোনি সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ইতালির আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দূর করতে সরকার খুব বেশি অগ্রগতি করতে পারেনি।

সংস্কার নিয়ে সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাসহ সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও আটকে আছে। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে সরকারের সমর্থিত একটি গণভোটও চলতি বছর ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কেন্দ্র-বামপন্থি বিরোধীরা মেলোনি সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে।
৫-স্টার মুভমেন্টের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কন্তে বলেন, ‘চার বছরের নিষ্ক্রিয়তা ও স্থবিরতা কোনো গর্বের বিষয় নয়; বরং এটি আরও বড় সমস্যার কারণ।’ তিনি বিশেষ করে ইতালির ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।
বারিতে মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির আয়োজিত সমাবেশের বিরুদ্ধেও একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

সামনে নির্বাচন
আগামী বছর ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে মেলোনিই তাঁর জোটের নেতৃত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে কেন্দ্র-বাম জোট সামান্য ব্যবধানে মেলোনির জোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে অভিবাসন, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে ফুতুরো নাজিওনালে নামে একটি কট্টর ডানপন্থি আন্দোলন জনপ্রিয়তা পাওয়ায় মেলোনির জোট কিছুটা সমর্থন হারিয়েছে।
তবে রেকর্ড সময় ক্ষমতায় থাকার মধ্য দিয়ে মেলোনি ইতালির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক তৈরি করেছেন। এখন তাঁর সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংস্কারে রূপ দেওয়া।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









