যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক চাপ কমায় এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিতে পারবে ইরান—মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা।
এরআগে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, তারা তথ্য পেয়েছে যে, আঞ্চলিক কিছু দেশের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলে, এমনটা হলে তেহরান ‘‘কোনো সীমাবদ্ধতা বা বিবেচনা ছাড়াই’’ পাল্টা জবাব দেবে।
ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে, তারা কূটনৈতিক উপায়ে এই সমস্যার সমাধান চায়, আর এরপর এই প্রক্রিয়া কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তার একটা সময়সূচি নিয়ে সমঝোতায় আসতে হবে।’’
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদল এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পূর্ণ ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তেহরান ছেড়ে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বলে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে শত্রুতার অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতার বিস্তারিত বিষয়াদি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিউইয়র্কেই আলোচনা করা সম্ভব।’’
তিনি আরো জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই তেহরানের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনীতিতে ফিরে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ।’’
‘‘ওয়াশিংটন যদি বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তেহরান কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে’’ যোগ করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









