হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে খুলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে, তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরান এখনো ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয় রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলা শুরুর কথা সহযোগীদের জানিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শুক্রবার প্রস্তাবটির বিস্তারিত তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরাগচির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিলে প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের পরমাণু পরিদর্শকদের ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
ইরানের শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, কিছু জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি। আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে আগ্রহ দেখালে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি ইরানের রয়েছে। তবে চাপ বা হুমকির কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, তার দেশ আলোচনার টেবিল থেকে সরে যায়নি। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমেছে। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে চাপ, হুমকি ও হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করবে।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ লেখা ছিল।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবের পর এখন ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের দিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









