যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তাদের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার ওহাইওর ভ্যান্ডালিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে গিয়ে তিনি ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কড়া ও অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে ওহাইওকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তিনি বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে রাজ্যটি আর্থিক সাহায্য পাবে। ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তাদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি কম আগ্রহী হবেন, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের মধ্যে পেট্রল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে। তার ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে, আর রিপাবলিকান প্রার্থীদের লড়াই কঠিন হয়ে উঠেছে।
‘ভোট দিন, জিতব বড় ব্যবধানে’
সভায় ছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর জন হাস্টেড এবং ওহাইওর গভর্নর পদপ্রার্থী বিবেক রামাস্বামী। ট্রাম্প সমর্থকদের ভোট দিতে বেরোনোর আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, রিপাবলিকানরা ‘বড় ব্যবধানে’ জিতবে।
ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে একাধিকবার অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন তিনি।
জনমত সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও ট্রাম্পের দাবি, ‘‘ফল সবাইকে অবাক করবে।’’
ট্রাম্প বলেন, ‘‘ওহাইওর রিপাবলিকান নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রায়ই তার কাছে রাজ্যের জন্য টাকা চান। রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় থাকলে তার প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে, ফলে কেন্দ্রীয় সাহায্য পাওয়াও সহজ হবে।’’
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের নাম করে তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু আমি তাকে সাহায্য করব না।’’
কঠিন লড়াইয়ে দুই প্রার্থী
হাস্টেডের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনেটর শেরড ব্রাউন, আর রামাস্বামীর প্রতিপক্ষ অ্যামি অ্যাক্টন। দুটি লড়াই-ই কাছাকাছি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সেনেট ও প্রতিনিধি সভা, দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ ঠিক হবে, এবং দুই কক্ষে এখন ব্যবধান সামান্য।
যে আটটি সেনেট আসনে জোর লড়াই হচ্ছে, ওহাইও তার একটি। ডেটা সেন্টার এবং তরুণদের লিঙ্গ পরিবর্তন সার্জারির মতো সাংস্কৃতিক বিতর্কে রাজ্যটি এখন প্রচারের কেন্দ্রে।
হাস্টেড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর ভরসা করছেন, যাতে যারা ভোট দিতে যেতেন না তারাও আসেন।
একই সঙ্গে তিনি ব্রাউনকে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘পঞ্চাশ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, আপনার জন্য একটা কাজের নাম বলতে পারবেন?’’
ব্রাউনের প্রচার দলের মুখপাত্র লরেন চউ পাল্টা অভিযোগ করেন, হাস্টেড ইরান নীতিতে ট্রাম্পকে সমর্থন করেন এবং কর ছাড়ের সুবিধা দিয়ে ডেটা সেন্টার টেনে এনেছেন।
তার কথায়, হাস্টেড সব সময় কর্পোরেট সংস্থা ও ধনকুবেরদের আগে রাখেন, আর দাম দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
হাস্টেড সভার আগে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান যুদ্ধ আমাদের শর্তে জিততে হবে এবং এর মধ্যেই তিনি জিনিসপত্রের দাম কমানোর জন্য লড়ছেন। এই ভোটে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো কয়েক কোটি ডলার ঢেলেছে।
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, হাস্টেড-ব্রাউন লড়াই দেশের দ্বিতীয় সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
দামের চাপে ক্ষুব্ধ ভোটাররা
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওহাইওতে ট্রাম্প ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তারপর অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তায় তার জনপ্রিয়তা কমেছে।
মার্কিন গাড়িচালক সংগঠন এএএর হিসাবে গত এক বছরে ওহাইওতে পেট্রলের দাম ৩৫ শতাংশ বেড়ে গড়ে গ্যালনপ্রতি ৪.১৬ ডলার হয়েছে।
সিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে কানাডা পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে। তাতে ওহাইওর প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে (২০২৫ সালের হিসাবে)।
সভার বাইরে ১৯ বছরের নির্মাণশ্রমিক জোনাথন স্মিথ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ‘‘আমার সস্তা পেট্রল কোথায়?’’
স্বতন্ত্র ভোটার স্মিথ বলেন, ‘‘বিয়ের জন্য টাকা জমাতে হবে, কিন্তু পেট্রলের দাম বাড়তে থাকায় সঞ্চয় করা কঠিন হচ্ছে। কাকে ভোট দেবেন, তিনি এখনও ঠিক করেননি।’’
ডেটা সেন্টার নিয়ে মতভেদ
সভায় আসা লোকজনের মধ্যে ডেটা সেন্টার নিয়ে মত ছিল মিশ্র। ২০ বছরের শিক্ষানবিশ প্লাম্বার স্যামুয়েল ক্লেভেঙ্গার বলেন, ‘‘এআই ডেটা সেন্টার তার খুব পছন্দ নয়। তবে ওভারটাইমের ওপর কর সীমিত করার ২০২৫ সালের নীতি এবং ওহাইওর প্রতি ট্রাম্পের নজর তাকে ভোট দিতে উৎসাহ দিয়েছে।’’
অন্যদিকে ৬০ বছরের ব্রেন্ডা হোয়াইট ধরেছিলেন ‘ডেটা সেন্টার সাউথ লোরেন" লেখা প্ল্যাকার্ড। তিনি চান, তার শহরে ইস্পাত কারখানার বদলে ডেটা সেন্টার হোক। হাস্টেড তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি ওখানে ডেটা সেন্টার চান?’ ছবি তোলার আগে হাস্টেডের এক সঙ্গী অনুরোধ করেন, প্ল্যাকার্ড ছাড়াই ছবি তোলা যাবে কি না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









