শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির পক্ষে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
কয়েক দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারের আন্দোলনে উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দেশটির বেশ কয়েকটি বড় শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও।
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। তাদের সমর্থনে অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরাও রাস্তায় নেমেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অনেকেই সাদা বাহুবন্ধনী পরে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ পরিসর তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য। গত এক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে ২১৫ জন তরুণ এবং ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় ৬ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির শত শত স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
সোমবার এক শিক্ষার্থীর হাত বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর আগে আন্দোলনের সময় আরেক শিক্ষার্থী মাথায় কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টারের আঘাতে আহত হন।
সোমবারের ঘটনাটি ঘটে উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে। ওই শিক্ষার্থী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের ছোড়া একটি স্টান গ্রেনেড তুলে নিয়েছিলেন, নাকি গ্রেনেডটি তার কাছেই বিস্ফোরিত হয়েছিল—এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে মঙ্গলবার ফ্রান্স ইনফোকে বলেন, ‘‘আমি ওই তরুণের প্রতি সমবেদনা জানাতে চাই। আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটি নিঃসন্দেহে একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’’
তবে তিনি আন্দোলনের মধ্যে ‘চরম সহিংসতা’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। জেফ্রে বলেন, শুরু থেকেই তিনি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, স্কুল অবরোধে উৎসাহ দেওয়ার পক্ষে নন।
তার দাবি, আন্দোলনের একেবারে শুরু থেকেই ‘অতি সহিংস’ কিছু গোষ্ঠী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়ে এবং তারা ক্ষমার অযোগ্য আচরণ করছে।
শিক্ষার্থী সংগঠন লে লিসেয়াঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট লুই লেতুবলোঁ এর জবাবে ফ্রান্স ইনফোকে বলেন, ‘‘মন্ত্রী বিষয়টি শুনেছেন; এখন তার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’’
এদিকে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন ফরাসি ডেমোক্রেটিক কনফেডারেশন অব লেবার (সিএফডিটি)সহ বেশ কয়েকটি জাতীয় শ্রমিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। প্যারিস, লিয়ন, মার্সেইসহ প্রায় ৩০টি শহরে মঙ্গলবার রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সোমবার জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির কিছু বিষয় সমাধানে সরকার পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। তবে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক ইউনিয়ন সিদিকাল লিসেয়েন (ইউএসএল) বলেছে, সরকার এখন পর্যন্ত ‘বাস্তব কোনো প্রস্তাব’ দেয়নি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি আরও কয়েকটি সংগঠন সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউও তাদের সদস্যদের মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ফ্রান্সের কট্টর বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের (এলএফআই) নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এই আন্দোলনকে ১৯৬৮ সালের পর ‘উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুব আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৯৬৮ সালে ফ্রান্সে ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল এবং লাখ লাখ শ্রমিক ধর্মঘটে গিয়েছিলেন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্যারিসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথমে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলেও পরে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। এখন শ্রমিক, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









