লেবানন সীমান্তের কাছে উত্তর ইসরাইলে এক বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিহত কিশোরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তর সীমান্তের কাছে ভ্রমণের সময় বিস্ফোরণে নিহত ছেলেটির পরিবারের শোকের সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করছেন। আহতদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতাও কামনা করেন তিনি। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জানিয়েছেন, নিহত কিশোরের বয়স ১৫ বছর। সে স্কুলের বার্ষিক শিক্ষা সফরে গিয়েছিল।
ইসরাইলি পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসাসংক্রান্ত সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে। এতে প্রায় ২০ জন বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন।
নেওত মরদখাই এলাকার কাছে, কিবুতজ মানারা ও কিবুতজ ইফতাখের মধ্যবর্তী স্থানে বিস্ফোরণটি ঘটে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর মালোত-তারশিহার পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কর্মীরা ভ্রমণে যাওয়ার সময় এ ঘটনায় হতাহত হন।
উত্তরাঞ্চলে সামরিক তৎপরতার মধ্যে বিস্ফোরণ
ইসরাইলের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় বর্তমানে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চলছে। ইসরাইলি বাহিনী বলছে, তারা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে সেনাসদস্য ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওদেহ বলেন, উত্তর ইসরাইল, বিশেষ করে আপার গ্যালিলি অঞ্চল ও লেবানন সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। গত তিন বছরে সেখানে হাজার হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের ঝুঁকিও থেকে গেছে।
ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু
বিস্ফোরণের ঘটনায় ইসরাইলের রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল-জাজিরার প্রতিবেদক।
এদিকে, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তার পূর্বনির্ধারিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করেছেন।
উত্তরাঞ্চলে ফিরতে অনিশ্চয়তায় বাসিন্দারা
২০২৩ সালে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর হিজবুল্লাহ সীমান্তের ওপার থেকে রকেট হামলা শুরু করলে উত্তর ইসরাইলের কয়েক হাজার বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়। পরবর্তী সময়ে সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পর নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানেলের কিছু এলাকায় অবস্থান নেয়। একই সময়ে সীমান্তের দুই পাশে গোলাবর্ষণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটে।
নূর ওদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের অনেক বাসিন্দা এখনো নিজেদের বাড়িতে ফেরেননি। তাদের আশঙ্কা, সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত আস্থা নেই। রকেট হামলায় নিজেদের বসতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখার পরও অনেকেই ফিরতে উৎসাহিত বোধ করছেন না। সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল থাকায় তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









