১৯৯৪ সালে আমি যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তখন এমন একটি সরকারি সংস্কারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলাম, যার ফলে ফ্রান্সের নিয়োগকর্তারা তরুণদের ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম বেতন দিতে পারতেন। আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশ যে ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়েছে, তার মুখোমুখি হতে হলে হয়তো সেদিন আমি ঘর থেকেই বের হতাম না।
এডেনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেড তার মুখে আঘাত করে। তার চোয়াল ভেঙে যায়, কয়েকটি দাঁত পড়ে যায়। ষোলো বছর বয়সী মায়েল একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের রাবার বুলেট নিক্ষেপকারী অস্ত্র এলবিডি থেকে ছোড়া গুলি তার চোখে আঘাত করে। ১৫ বছর বয়সী ইভানের হাত উড়ে গেছে পুলিশের একটি স্টান গ্রেনেডের বিস্ফোরণে। দুনকার্কে পুলিশের একটি এসইউভি গাড়ি বারবার স্কুলশিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলের দিকে তেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আরও কাছে আয়, শালাদের মুখ গুঁড়িয়ে দেব।’
পুলিশের হেফাজতে নির্মম আচরণের শিকার শিশুদের বিবরণে উঠে এসেছে আতঙ্ক, মানসিক আঘাত এবং তার দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিণতির কথা। মানবাধিকারের স্বঘোষিত আবাসভূমি ফ্রান্স এখন এমন আন্তর্জাতিক আইনি নজরদারির মুখে পড়ছে, যা সাধারণত উন্মত্ত কর্তৃত্ববাদী শাসনের ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত। মানবাধিকার সংগঠন লিগ দে দ্রোয়া দ্য লোম (এলডিএইচ) তরুণদের ওপর উদ্বেগজনক ‘নিষ্ঠুরতা চাপিয়ে দেওয়ার’ নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, এই দমন-পীড়ন তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূত ফরাসি কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভকারীদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলেছে, ফ্রান্সের বিক্ষোভ ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তারা ‘উদ্বেগের সঙ্গে’ পর্যবেক্ষণ করছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে রাবার বুলেট নিক্ষেপকারী অস্ত্রের ব্যবহার স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, বলপ্রয়োগের মাত্রা ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এই সপ্তাহে ফ্রান্সে গেছেন শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে। তার আন্দোলন এখন ক্রমেই নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে বৃহত্তর সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
এদিকে বলা হচ্ছে, ফ্রান্সের অর্থনীতি সংকটে, ঋণের বোঝা অসহনীয়। তাই শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ১০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করা অসম্ভব। কিন্তু এই যুক্তি একটি মৌলিক সত্যকে আড়াল করে: সরকারি ব্যয় কেবল অর্থনৈতিক হিসাবের বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও। ঋণ কমাতে চাইলে সরকার সরকারি ব্যয় সংকুচিত করতে পারে, আবার রাজস্বও বাড়াতে পারে। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কার ওপর বোঝা চাপাতে চায়, আর কাদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়?
অর্থনীতিবিদ এলিজ হুইলিয়েরি ও রোমান পারি শিক্ষায় বছরে অতিরিক্ত ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছেন। বড় অঙ্কের উত্তরাধিকারের ওপর কর সংস্কারের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এভাবে ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আসতে পারে। কর বাড়বে শুধু উত্তরাধিকারীদের সবচেয়ে ধনী এক শতাংশের ওপর।
এই অর্থ দিয়ে শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের সহায়তা উন্নত করা, বৃত্তি ও আবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি শিক্ষার্থীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু সরকারি ব্যয় নিয়ে বিতর্ক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ন্যায্য ক্ষোভকে বাতিল করে না। তাঁদের অভিযোগ নতুন নয়। একইভাবে, এই ক্ষোভের জবাবে নিষ্ঠুর পুলিশি দমন-পীড়ন চালানোরও কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ফ্রান্সের সবচেয়ে বঞ্চিত এলাকার স্কুলগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে অসম ব্যবস্থাগুলোর একটি। শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করার মতো মৌলিক প্রয়োজনেও রাষ্ট্রের অবহেলা বহু বছর ধরে স্পষ্ট। কোনো কোনো এলাকায় মাসের পর মাস পদ খালি পড়ে থাকে।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২ কোটি ঘণ্টারও বেশি পাঠদান হয়নি। অর্থাৎ প্রতি দশটি ক্লাসের প্রায় একটি বাদ পড়েছে। এর মধ্যে দেড় কোটিরও বেশি ঘণ্টার পাঠদান ব্যাহত হয়েছে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায়। জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অগ্রাধিকারভিত্তিক শিক্ষা অঞ্চলগুলোর স্কুলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা সেইন-সাঁ-দেনিতে ২০২৩ সালে স্কুল চিকিৎসকের দুই-তৃতীয়াংশ পদ খালি ছিল। ২০২২ সালেই ক্রেতেই শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের ৬০ জন স্কুল নার্স ও ২০ জন সমাজকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। শূন্য পদগুলোর ৯০ শতাংশই ছিল সেইন-সাঁ-দেনিতে।
২০২৫ সালে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার কর্মীদের মধ্যে ৪৯টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মৃত্যুর সব কটিকে কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। কিন্তু গোটা শিক্ষা খাতে কাজের পরিবেশ যে কতটা অবনতি হয়েছে, এই সংখ্যা সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় না।
স্কুলগুলোর ভবনও ভেঙে পড়ছে। কোথাও ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণে পানীয় জল অনিরাপদ, কোথাও ইঁদুর ও তেলাপোকার উপদ্রব। আছে নোংরা শৌচাগার, দেয়ালের গর্ত, ছাঁচ ধরা কক্ষ এবং বৃষ্টিতে উপচে পড়া পয়োনিষ্কাশন ট্যাংক। কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না, কোথাও প্রয়োজনীয় আসবাব নেই। কিছু শ্রেণিকক্ষে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এতটাই খারাপ যে শীতকালে তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, আবার তাপপ্রবাহের সময় ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়। এগুলো এমন এক রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের প্রতিফলন, যেখানে শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।
বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল মায়োতে দ্বীপে। সেখানে ৯০০ শিক্ষার্থীর জন্য নির্মিত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে ২ হাজার ৩০০ জন। পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে। ক্রেতেইয়ের একটি স্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছিল ১৩ জন শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে; এমনকি একজন উপপ্রধান শিক্ষকও ছিলেন না। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আরেকটি কেন্দ্র পারকুরসুপ—উচ্চশিক্ষায় ভর্তির আবেদন ও বাছাইব্যবস্থা। বহু শিক্ষার্থীর কাছে এই ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক। চলতি বছর ১ লাখ ২৬ হাজার আবেদনকারী এখনো কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাননি। তাদের অনেকেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান। এই সংকটকে ন্যায্য সামাজিক প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের দাবির জবাব দেওয়ার পরিবর্তে সরকার বেছে নিয়েছে অন্য পথ। তারা নগর সহিংসতা মোকাবিলার জন্য প্রণীত একটি কার্যবিধির আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের এমন এক অভ্যন্তরীণ শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাদের নিরস্ত ও নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে হবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির বিপদ সুস্পষ্ট। যখন সরকার সামাজিক সংঘাতকে সমাধানযোগ্য রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে না দেখে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, তখন সংলাপের জায়গা দখল করে বলপ্রয়োগ। দাবিগুলো শোনার বদলে রাষ্ট্র মনোযোগ দেয় দাবিদারদের দমনে। ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু। শুধু ১ অক্টোবরেই গ্রেপ্তার করা হয় ১ হাজার ৯৪৯ জনকে। ইতিহাসবিদ এরিক আনসোর মতে, ১৯৬১ সালের পর কোনো এক দিনে গ্রেপ্তারের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
বিচারকদের বামপন্থী সংগঠন সিন্ডিকা দ্য লা মেজিস্ত্রাতুরের মতে, এই বিপুল গ্রেপ্তার আন্দোলনকে চূর্ণ করার সুস্পষ্ট সংকল্পেরই প্রতিফলন। পুলিশের উপস্থিতি ও অভিযান এতটাই ব্যাপক যে শিশুদের রক্ষায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানবপ্রাচীর তৈরি করতে হয়েছে।
পুলিশি অভিযানের একটি বড় সমস্যা হলো, সেখানে গ্রেপ্তারকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে, বলপ্রয়োগ উসকে ওঠে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর পরিণতিতে আরও মানুষ দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েন। অস্থিরতা শুরুর পর থেকে প্রায় ৭০০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।

সমাজবিজ্ঞানী অলিভিয়ে ফিয়েউল মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অবরোধ দ্রুত ভেঙে দিতে গিয়ে যদি কিশোরদের গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে বিকল্প পথ বিবেচনা করতে হবে। তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে যদি আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সাময়িকভাবে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সহ্য করাও বিক্ষোভ মোকাবিলার একটি নীতি হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেছেন, কৃষকদের অবরোধের ক্ষেত্রে ফরাসি কর্তৃপক্ষ সংযম দেখাতে জানে। তাহলে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই সেই সংযম কোথায়?
পুলিশের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের সহিংসতার ৩৬টি অভিযোগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেছেন, পুলিশকে ‘সংযম দেখানোর কোনো নির্দেশ’ তিনি দেননি।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই বক্তব্য শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, অপমানজনকও। যে তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছে, শিক্ষার অধিকার দাবি করছে এবং রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাদের প্রতি এমন অবজ্ঞা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। ফ্রান্সের সংকট কেবল স্কুলের অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট কিংবা শিক্ষায় বিনিয়োগের ঘাটতির সংকট নয়। এটি রাষ্ট্র কীভাবে তার নাগরিকদের দেখে, সেই প্রশ্নও। তরুণদের কণ্ঠস্বর কি রাষ্ট্র শুনবে, নাকি তাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে দমন করবে?
যে শিক্ষার্থীরা বলছে তাদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক নেই, স্কুলে বিশুদ্ধ পানি নেই, শৌচাগার ব্যবহার করার উপযোগী নয়, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পথ বৈষম্যে আটকে আছে—তাদের জবাব যদি হয় কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট, গ্রেপ্তার ও ভয় দেখানো, তাহলে রাষ্ট্র নিজের ব্যর্থতার দায়ও তাদের ওপর চাপাচ্ছে। সত্য বলা কোনো অপরাধ নয়। শিক্ষার অধিকার দাবি করা কোনো নিরাপত্তা হুমকি নয়। আর শিশুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের সামনে এখন দুটি পথ। একদিকে রয়েছে পুলিশি শক্তির প্রদর্শন, যা ক্ষোভকে আরও গভীর করবে। অন্যদিকে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কথা শোনা, স্কুলের দুরবস্থা দূর করা এবং শিক্ষায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের রাজনৈতিক সাহস দেখানো। গণতন্ত্রের শক্তি তার কতজন প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারে, তার মধ্যে নয়। তার শক্তি নিহিত রয়েছে—কতটা সমালোচনা সহ্য করতে পারে, কতটা অন্যায় সংশোধন করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি কতটা দায়িত্ব পালন করে, তার মধ্যে।
যে রাষ্ট্র নিজের স্কুলশিক্ষার্থীদের শত্রু বলে গণ্য করে, সে রাষ্ট্র আসলে নিজের ভবিষ্যৎকেই শত্রু বানিয়ে ফেলে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









