পারস্য উপসাগরে কোনো অবস্থাতেই মার্কিন সামরিক জাহাজ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যে এ ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘‘কোনো পরিস্থিতিতেই এবং কোনো সময়েই আমরা পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজের উপস্থিতি মেনে নেব না।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের স্বপ্ন দেখলে তা স্বপ্নই থেকে যাবে।’’
লেবাননের সংবাদমাধ্যম ‘লরিয়ঁ লে জুর’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এ হুঁশিয়ারি এসেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি জোরালো করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে ইরান। তেহরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ও শনিবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাত পেয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। জাহাজ দুটির ইঞ্জিনকক্ষ বিস্ফোরণ ও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
নতুন হামলার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার পথও খোলা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। ফলে এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









