ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালালে তার জবাব কল্পনাতীত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, সামরিক হামলা বা হুমকির মুখে ইরান মাথা নত করবে না। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও পরিচালনাব্যবস্থা আগের মতো থাকবে না।
পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও চাপ দিয়ে ইরানকে ভয় দেখানো যাবে না। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে গালিবাফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, সংবাদমাধ্যমে চাপ সৃষ্টি কিংবা সামরিক হুমকি দিয়ে ইরানের মতো একটি বড় দেশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে।
তিনি বলেন, বর্তমান ইরান পাহলভি আমলের অপমানিত ইরান নয়। বরং দেশটি আত্মবিশ্বাস, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও দৃঢ় সংকল্পের এক দুর্ভেদ্য দুর্গ।
ইরানের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান গালিবাফ। তার ভাষ্য, বৃহত্তর যুদ্ধের হুমকি দিয়ে ইরানকে নিজের স্বার্থ থেকে সরে আসতে বাধ্য করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে, জবরদস্তি ও লোভনির্ভর নীতি বন্ধ করতে হবে এবং যেসব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দিতে হবে। তা না হলে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।

গালিবাফের অভিযোগ, ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াশিংটন নিজেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের এক দিন পর ইরানের এ হুঁশিয়ারি এল। ট্রাম্প বলেছিলেন, রোববারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে, অথবা তেহরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা বেড়েছে।
রবিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘লুকাস’ চালকবিহীন উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। বন্দর আব্বাস হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পরিচালনাব্যবস্থাও আগের অবস্থায় ফিরবে না।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, আরাঘচি বলেছেন, চলমান যুদ্ধ সবকিছু বদলে দিয়েছে এবং নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ ও এর ব্যবস্থাপনা আর আগের মতো থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ইরান এ অঞ্চলের দেশগুলোর উদ্যোগে গড়ে ওঠা নিরাপত্তাব্যবস্থাকে স্বাগত জানাবে। তবে বাইরের শক্তির চাপিয়ে দেওয়া কোনো ব্যবস্থা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ এ পথের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল।
প্রণালিটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তেহরান এ জলপথে চলাচলের ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের কথা বলছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন অবাধ নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে জুনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হলেও নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় কূটনৈতিক আলোচনা থমকে গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









