হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত নয়, এমন একটি নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত পেয়ে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। পরে জাহাজগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ট্যাংকারগুলো তাদের রাডার ও নৌ-চলাচল ব্যবস্থা বন্ধ করে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় ইরানি বাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় জাহাজগুলো নৌ-মাইনে আঘাত পায় এবং আগুন ধরে যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত নৌপথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। এ ধরনের পথ ব্যবহারের দায় সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক ও নাবিকদের নিতে হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে সতর্কবার্তা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করতে নৌযান পরিচালনাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।
বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, প্রণালিতে চলাচলের নিয়ম উপেক্ষা করে কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তবে ট্যাংকার তিনটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, সেগুলোতে কতজন নাবিক ছিলেন কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ে তাসনিমের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পাওয়ার কথা জানায়। তবে আগুন লাগার কারণ বা সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। ওই জাহাজটি ইরানের দাবিতে উল্লেখ করা তিনটি ট্যাংকারের কোনো একটি কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামুদ্রিক চলাচল এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে তিনটি ট্যাংকারে মাইন আঘাতের বিষয়ে ইরানের দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









