ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ এবং দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকটের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর সরাসরি নির্বাচনী আপডেট ও প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রাথমিক ভোট গণনার হিসাবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৮টি। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
সামরিক বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক এবং অন্যান্য বিশেষ শ্রেণির ভোটারদের ব্যালট গণনা তখনও চলছিল। তবে এসব ভোটের ফলে সামগ্রিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছিল না।
আরব দলগুলো হতে পারে নির্ধারক
নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর আসন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের সম্মিলিত ১৯টি আসন সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক।
আইজেনকটের বিরোধী জোট আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিরোধী জোটের অনেক নেতা নির্বাচনী প্রচারের সময় এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন।
আরব দলগুলোর অবস্থানও এক নয়। জয়েন্ট লিস্ট সরাসরি সরকারে যোগ দিতে অনিচ্ছুক হলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিরোধী জোটের সংখ্যালঘু সরকারকে সংসদে কৌশলগত সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, রা'আম পার্টি সহযোগিতার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত অবস্থান জানিয়েছে।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সাফল্যের পর নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, আরব দলগুলো নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফল জানাতে বলা হয়েছে। কাতারও ইসরাইলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো একটি সম্প্রদায়ের সবাইকে সন্দেহের আওতায় আনা উচিত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
সামনে কী হতে পারে
ইসরাইলের সামনে এখন মূলত তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে—আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধী জোটের সরকার গঠন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকার প্রতিষ্ঠা, অথবা সমঝোতা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পথে যাওয়া।
নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্তেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফল ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের মতপার্থক্য এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত—দুই বিষয়ই পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









