যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দায়ী করছেন দলটির নেতাকর্মী ও নির্বাচনী কৌশলবিদদের অনেকে। প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা করতে অনেকে দ্বিধায় থাকলেও ব্যক্তিগত আলোচনায় তার নীতি, সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন তারা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে থেকেই রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতি দলটির নির্বাচনী প্রচারণাকে কঠিন করে তোলে।
রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ট্রাম্পের এসব সিদ্ধান্তের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ায় নির্বাচনে তার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির কৌশলবিদেরা।
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতারা আশা করেছিলেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কৌশল সফল হয়নি। বরং যেসব এলাকায় রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান ছিল, সেখানেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও প্রকাশ্যে তাকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস খুব কম নেতারই রয়েছে। কারণ, এখনো দলটির ওপর ট্রাম্পের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনের আগে পরিচালিত পলিটিকোর একটি জরিপেও রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে মতভেদের চিত্র উঠে আসে। জরিপে ২৯ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের কারণে দলটির জনপ্রিয়তা কমেছে। অন্যদিকে ৩০ শতাংশের মতে, ট্রাম্প নিজে নির্বাচনের ব্যালটে না থাকায় দলটির ফল খারাপ হতে পারে। ১৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। বাকি প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মত দেননি।
রিপাবলিকানদের অসন্তোষের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ধরন। দলটির কয়েকজন কৌশলবিদ মনে করেন, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রকল্প নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় ট্রাম্প সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং দলকে বিজয়ী করতে নিজের রাজনৈতিক শক্তি ও সময় ব্যয় করেছেন।
তবে নির্বাচনের ফলাফল রিপাবলিকান পার্টির সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দলটির নেতাদের এখন একদিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভোটারদের হারানো সমর্থন ফিরিয়ে আনার কৌশলও খুঁজতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরাজয়ের পর রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও প্রকাশ্য হতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নেতৃত্ব অব্যাহত থাকবে, নাকি ২০২৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকে এগোবে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









