ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আর কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এখন থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ও পাল্লা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আগে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু বক্তব্য দিয়ে সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাস্তবে প্রদর্শন করাই এখন তাদের দায়িত্ব।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির সাম্প্রতিক নির্দেশনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইআরজিসির মুখপাত্র এসব কথা বলেন। ওই নির্দেশনায় ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি বা সামরিক হামলার জবাব ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, শত্রুপক্ষকে থামিয়ে দেওয়ার মতো ইরানের হাতে অনেক উপায় রয়েছে। প্রতিপক্ষের সামরিক ও বেসামরিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তাদের দুর্বল করার সুযোগও রয়েছে তেহরানের। অসম যুদ্ধের কৌশলে শত্রুপক্ষের অপ্রত্যাশিত কোনো স্থানে আঘাত হেনে তাদের সক্ষমতা অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুধু প্রচলিত সামরিক শক্তি নয়, বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত সক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারে ইরান।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার হালনাগাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার এ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তেহরানের সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ বক্তব্যকে দেশটির প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কত দূর পর্যন্ত বাড়ানো হবে কিংবা নতুন সক্ষমতা কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি আইআরজিসির মুখপাত্র।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









