ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। প্রথম আদেশেই তিনি রাজ্যে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দিতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ও নারীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
রবিবার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শপথ গ্রহণ করেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফাইলে সই করেন তামিলাগা ভেট্টিরি কাঝাগাম (টিভিকে) প্রধান। এনডিটিভি এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম আদেশেই টিভিকে প্রধান বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণের নির্দেশ দেন। তার আদেশে মাদকের মহামারি রুখতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং নারীদের সুরক্ষায় হেল্পলাইনসহ একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
জানা যায়, শপথ গ্রহণ শেষে উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশে এক আবেগঘন ভাষণ দেন বিজয়। বরাবরের মতো তার বিখ্যাত সেই তামিল সম্বোধন ‘এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম’ (আমার হৃদয়ে যারা বাস করো) দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। এই শব্দবন্ধটি তিনি সিনেমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভক্তদের সম্বোধন করতে ব্যবহার করে আসছেন। আজ রাজনৈতিক মঞ্চেও সেই একই ভাষায় মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করেন তিনি।
বিজয় বলেন, ‘‘তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক অধিকারের বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগী থাকবেন। কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সব ভালো হবে।”
তিনি বলেন, “এক সহকারী পরিচালকের ছেলে এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কী আমি জানি। আমি কোনো রাজ পরিবার থেকে উঠে আসিনি। অনেক কষ্ট দেখেছি আমি, হয়তো অনেকে অপমানও করেছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বলেন, “আমি আপনাদের সন্তানের মতো, আপনাদের ভাই, আপনাদের ছোট ভাই। আপনাদের হৃদয়ে আমাকে জায়গা দিয়েছেন, আমাকে গ্রহণ করেছেন।”
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না—এমন আশ্বাস দিয়ে বিজয় বলেন, “ডিএমকে রাজ্যের ভাণ্ডার খালি করে দিয়েছে, আমরা ১০ লাখ কোটি রুপি ঋণ মাথায় নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা লোকজনের পকেট থেকে এক টাকাও নেবো না, এবং কাউকে রাজ্য লুট করতেও দেবো না।”
‘প্রকৃত, সেক্যুলার, সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগের’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া বক্তৃতায় বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীন চক্রবর্তী, বাম নেতা এমএ বাবা ও অন্য মিত্রদের ধন্যবাদ জানান।
মঞ্চে সেসময় রাহুল গান্ধী ছিলেন, যিনি ৪ মে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজয় ও টিভিকে-কে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
এর আগে, গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে বিজয়ের দল। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে গত চারদিন তুমুল রাজনৈতিক নাটকীয়তা চলে। এই সময়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে চার দফা বৈঠক এবং সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে সক্ষম হন এই নেতা।
উল্লেখ্য, শপথগ্রহণের পর আগামী বুধবারের (১৩ মে) মধ্যে তাকে বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









