বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জলসিঁড়ির ওই আটতলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে দুদকের একটি দল। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল বাড়িটিতে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আদালত বরখাস্ত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা স্থাবর সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে ‘রিসিভার’ (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেয়।
২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়াউল আহসান নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া অনুমোদিত সীমার বেশি ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এসব অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে জিয়াউল আহসানের নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









