বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটে আট দিন পর আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষে ইউনিটটি চালু করা হয়।
এর আগে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখতে সবসময় চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যে কোনো একটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটেই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চলছে এবং পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষে চালু হওয়ার পর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটই চালু হওয়ায় এখন চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে কেন্দ্রটি।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) গঠন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগরদাসকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। পরের বছর ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়।
কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। তবে স্বাভাবিকভাবে দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









