‘তুরস্ক সম্পর্কে আমার গভীরভাবে পড়াশোনা নেই। তবে তুরস্কের বিপ্লবের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, এই বিপ্লব শুধু তুরস্কের নয়, বরং সমগ্র প্রাচ্যের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে। প্রাচ্যের একজন মানুষ হিসেবে তুরস্কের এই অগ্রগতি আমাকে আশাবাদী করে।’
কথাগুলো কোনো সাধারণ পর্যবেক্ষকের নয়। বলেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯২৬ সালের ২২ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে উর্দু সংবাদপত্র ‘রোজানা হামদর্দ’-এর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল তুরস্কের বিপ্লব নিয়ে রবীন্দ্রনাথের মূল্যায়ন কী।
সেদিনের সেই কথোপকথন কেবল একজন কবির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে না, বরং ভারতীয় উপমহাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে গড়ে ওঠা এক গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
‘রোজানা হামদর্দ’ পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর। তুরস্কের প্রতি সমর্থন প্রকাশের কারণে ব্রিটিশ ভারতে কারাবন্দী হওয়া প্রথম সাংবাদিক হিসেবে তিনি পরিচিত। ফলে রবীন্দ্রনাথের কাছে তুরস্কের বিপ্লব নিয়ে জানতে চাওয়ার বিষয়টিও সে সময়ের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সমুদ্রপথে ইস্তাম্বুলে কবি
ইতালি, জার্মানি, হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া সফর শেষে ১৯২৬ সালের ২১ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে পৌঁছান রবীন্দ্রনাথ। রোমানিয়ার ‘ইম্পারাতুল ত্রাইয়ান’ নামের একটি জাহাজে করে তিনি সেখানে যান। সঙ্গে ছিলেন ছেলে, পুত্রবধূ, সচিব ও স্ত্রী।
ইস্তাম্বুলে যাওয়ার আগে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে রাজা ফার্দিনান্দের সঙ্গে দেখা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯২৬ সালের ২৩ নভেম্বর কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে প্রকাশিত ‘ভিক্টোরিয়া ডেইলি টাইমস’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে যাত্রার আগে রাজা ফার্দিনান্দ রবীন্দ্রনাথকে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন রাজার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রোমানিয়ায় নানা ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। এর প্রায় আট মাস পর, ১৯২৭ সালের ২০ জুলাই মারা যান রাজা ফার্দিনান্দ।
রবীন্দ্রনাথ ইস্তাম্বুলে পৌঁছাবেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শহরের অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি ট্রেনে আসবেন। তাই রেলস্টেশনে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এলেন সমুদ্রপথে। ফলে জাহাজে পৌঁছানোর পর সংবাদপত্রের প্রতিনিধিরাই কেবল তাকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পান।
তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদপত্রে রবীন্দ্রনাথের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। তার প্রতি ছিল যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও আগ্রহ। সে সময়ের উসমানীয় তুর্কি ভাষার সংবাদপত্র ‘ভাকিত’-এও তার সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
তবে ইস্তাম্বুল বন্দরে জাহাজটি এক রাত ও দুই দিন অবস্থান করলেও অসুস্থতার কারণে রবীন্দ্রনাথ জাহাজ থেকে নামেননি। ফলে শহরে তার জন্য যে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করার কথা ছিল, তা আর সম্ভব হয়নি।

পশ্চিমের বস্তুবাদ নিয়ে উদ্বেগ
‘রোজানা হামদর্দ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তুর্কি সাংবাদিকদের কথোপকথনের বিবরণ পাওয়া যায়। সাংবাদিকেরা যখন তাকে জানান, তুরস্কে তার বই বেশ জনপ্রিয় এবং বহু মানুষ সেগুলো পড়েন, তখন কবির চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা দিয়েছিল।
ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে দেওয়া বক্তৃতার বিষয়বস্তু জানতে চাইলে রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমা সভ্যতার বস্তুবাদী প্রবণতা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেছিলেন, ‘পশ্চিমের বস্তুবাদ তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক জীবন মানুষকে ক্রমেই বেশি বস্তুবাদী ও কঠোর হৃদয়ের করে তুলছে। আমার বক্তৃতাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল শ্রোতাদের মনে করিয়ে দেওয়া, জীবনের লক্ষ্য কেবল বস্তুগত অর্জনের চেয়ে অনেক বড়।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপের মানুষের চিন্তাভাবনা ও জীবনযাপনের ধরনে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন, তাতে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন।
মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়েও রবীন্দ্রনাথের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। ১৯২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘রোজানা হামদর্দ’-এর এক প্রতিবেদনে তার একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘মানুষ যখন একে অপরকে শাসন করার চিন্তা পরিত্যাগ করবে এবং সবাইকে সমান হিসেবে দেখতে শিখবে, তখন মানবজাতির জন্য আর কোনো বিপদের আশঙ্কা থাকবে না।’
এই বক্তব্যে তার মানবতাবাদী দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটে ওঠে। মানুষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা নয়, বরং সমতা ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠাকেই তিনি শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর শর্ত হিসেবে দেখেছিলেন।
ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা
রবীন্দ্রনাথ ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। ‘রোজানা হামদর্দ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ নভেম্বর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপক, কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং নগর প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা কবিকে স্বাগত জানান। সমুদ্রপথে তার আগমন এবং অসুস্থতার কারণে যথাযথ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাতে না পারায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেন।
২৩ নভেম্বর প্রকাশিত তুর্কি সংবাদপত্র ‘ভাকিত’-এর প্রতিবেদনেও এ ঘটনার বিবরণ রয়েছে। পত্রিকাটি জানায়, ইস্তাম্বুলের দারুলফুনুন—বর্তমান ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের—প্রায় ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত দলটির নেতৃত্বে ছিলেন শিক্ষক ফেরিদ বে ও আভরাম আলাতি এফেন্দি।
অসুস্থতার কারণে রবীন্দ্রনাথ নিজের কক্ষেই তাদের সঙ্গে দেখা করেন।
ইস্তাম্বুল নগর প্রশাসনের কর্মকর্তা সাদ বে-ও কবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি নগরপ্রধান মুহিউদ্দিন বের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। একই সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ নভেম্বর দুপুর প্রায় দুইটার দিকে গ্রিস হয়ে মিসরের উদ্দেশে ইস্তাম্বুল ছাড়েন রবীন্দ্রনাথ।
আতাতুর্কের কাছে বই চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথের তুরস্ক সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে স্মিতা তেওয়ারি জাসাল ও হালিল তুরানের সম্পাদিত একটি বইয়ে। সেখানে অর্থনীতির অধ্যাপক আইয়ুপ ওজভেরেন কবির ইস্তাম্বুল সফরের বিবরণ দিয়েছেন।
ওজভেরেনের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাজটি বসফরাস প্রণালির বন্দরে নোঙর করার সময় রবীন্দ্রনাথের কেবিন ছিল ইউরোপীয় অংশের পরিবর্তে এশীয় অংশের দিকে। একের পর এক সম্মেলন ও বক্তৃতায় অংশ নেওয়ার কারণে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে ইস্তাম্বুলে আরেকটি বক্তৃতা দিতে রাজি হননি। তবে নিজের কেবিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হয়েছিলেন।

ওই কথোপকথনে তুরস্ক সম্পর্কে তার মতামতও জানতে চাওয়া হয়। ওজভেরেনের বর্ণনায় রবীন্দ্রনাথের একটি বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আমাদের সভ্যতার পথে এগিয়ে যাওয়ার দিশা দেখিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোও যে পথ অনুসরণ করেছিল, এটি সেই পথ।’
এই বিবরণের সূত্র হিসেবে ওজভেরেন ১৯২৬ সালের ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত ‘জুমহুরিয়েত’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছেন।
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরে রবীন্দ্রনাথ দেশটির প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককে একটি চিঠি লিখেছিলেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগারের জন্য তিনি তুরস্ক ও তুর্কি সাহিত্যবিষয়ক বই চেয়েছিলেন। আতাতুর্ক তার অনুরোধে ৪১টি বই পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এসব বই বিশ্বভারতীর গ্রন্থাগারের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রায় আট দশক পর তুরস্ক সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীও এই বইগুলোর কথা উল্লেখ করেছিলেন।
মাজিক সিনেমা হলে কবিতাপাঠের স্মৃতি
রবীন্দ্রনাথের ইস্তাম্বুল সফর নিয়ে আরেকটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য পাওয়া যায় তুর্কি সমাজবিজ্ঞানী নিয়াজি বেরকেসের স্মৃতিকথায়। অধ্যাপক আইয়ুপ ওজভেরেন তার বইয়ের একটি অধ্যায়ে বেরকেসের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
বেরকেসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের পেরা এলাকার বিখ্যাত মাজিক বা ম্যাজিক সিনেমা হলে রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতাপাঠের আয়োজন হয়েছিল।
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত বেরকেসের বই ‘আসিয়া মেকতুপলারি’ পড়ার পর লেখক এ বিষয়ে আরও তথ্য অনুসন্ধান করেন। সেখানে বেরকেস ১৯৫৮ সালের জানুয়ারিতে ভারতের আলিগড়ে অবস্থানের একটি স্মৃতি তুলে ধরেছেন। দুটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি নিজের ছাত্রজীবনের একটি ঘটনার কথাও স্মরণ করেন।
বেরকেস লিখেছেন, ‘আমাদের ছাত্রজীবনে ভারতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন। তিনি তাকসিমের ম্যাজিক সিনেমা হলে বাংলায় কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। তার উচ্চারণ আমার কানে “কাবারা মাকারা”-এর মতো শোনাত। কিন্তু তার মধ্যে ছিল এক অসাধারণ গাম্ভীর্য ও ব্যক্তিত্ব। তিনি সাদা পোশাক পরেছিলেন। তার বিশাল সাদা দাড়ি বুক পর্যন্ত নেমে এসেছিল।’
তবে বেরকেসের স্মৃতিকথা ছাড়া ইস্তাম্বুলের তাকসিম এলাকায় অবস্থিত ম্যাজিক সিনেমা হলে রবীন্দ্রনাথের বাংলা কবিতাপাঠের পক্ষে স্বাধীন কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো স্মৃতিনির্ভর বিবরণ হিসেবেই বিবেচিত।
তুরস্কের স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তুরস্ক আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। এই শ্রদ্ধা কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো স্মরণ নয়; বরং সাহিত্য ও চিন্তার জগতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি প্রকাশ।
তার অনেক সাহিত্যকর্ম তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সেসব বই এখনো তুরস্কের পাঠকদের কাছে সমাদৃত। ২০০৩ সালে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় তার নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়। ভারতীয় এই কবি ও চিন্তাবিদের প্রতি তুরস্কের ভালোবাসা ও স্বীকৃতির এটি একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
১৯২৬ সালে অসুস্থ শরীর নিয়ে ইস্তাম্বুলে অল্প সময়ের জন্য অবস্থান করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। শহরটিতে তিনি দীর্ঘ কোনো সফর করেননি, বড় কোনো বক্তৃতাও দেননি। কিন্তু তার সেই সংক্ষিপ্ত সফর দুই দেশের মধ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার যে সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছিল, তা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের কাছে তুরস্ক ছিল কেবল একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্র নয়; ছিল প্রাচ্যের জাগরণ, আত্মমর্যাদা ও নতুন সভ্যতা নির্মাণের সম্ভাবনার একটি প্রতীক। আর সেই ভাবনার মধ্য দিয়েই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে তার প্রথম ইস্তাম্বুল সফর।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









