ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষমতার অলিগলিতে কার ভয়ে কার রাতের ঘুম হারাম—হ্যালোইনের মেজাজে সেই ভুতুড়ে হিসাব কষেছে পলিটিকো।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে রাত নেমেছে। চারদিকে সুনসান নীরবতা। কিন্তু সাবধান! এই নীরবতার আড়ালেই শুরু হতে যাচ্ছে দুঃস্বপ্নের মহড়া। শুমান গোলচত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভিক্টর অরবানের ভূত। লাল ফিতার দাহ্য চিতা থেকে উড়ে আসা ছাই ঢেকে ফেলেছে জাস্টাস লিপসিয়াস ভবন। উরসুলা ফন ডার লেয়েনের চিফ অব স্টাফ বিয়র্ন সেইবার্ট কর্মীদের পেছনে ছুটছেন। তার একটাই প্রশ্ন, ‘কানাডার সহযোগী সদস্যপদ ব্যাপারটা আসলে কী বস্তু?’ আর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা থরথর করে কাঁপছেন। ভয়, ভবন সংস্কারের সময় যদি মাটি খুঁড়ে পুরোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কঙ্কাল বেরিয়ে আসে!
ভয় পেয়েছেন? ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক। চলুন, দেখে নেওয়া যাক ব্রাসেলসের ক্ষমতার বুদ্বুদের ভেতরে কে কাকে ভয় পায়, আর কার নাম শুনলে কার হাঁটুর জোড়ায় তালা পড়ে।

সবাই ভয় পায় মেরিন ল্য পেনকে
ইউরোপীয় কূটনীতিক, কর্মকর্তা আর আইনপ্রণেতাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মেরিন ল্য পেন। তিনি সত্যিই কি কথা অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটে প্যারিসের অবদান অর্ধেক করে দেবেন? ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে কি ব্রাসেলসের মূলধারার রাজনীতি থেকে টেনে নিজের দিকে নিয়ে যাবেন? আর উরসুলা ফন ডার লেয়েনের মাথাটাই কি চাইবেন?
একসময় ব্রাসেলসের লোকজন ভাবতে শুরু করেছিল, জর্দান বারদেলা যদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হন, মন্দ কী! ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ন্যাশনাল র্যালির দায়িত্ব সামলানোর সময় তিনি ব্রাসেলসের সঙ্গে বেশ বাস্তববাদী আচরণ করেছিলেন। ফলে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মনে একটু আশার আলো জ্বলেছিল। কিন্তু সে আলো বেশিক্ষণ টেকেনি। প্যারিসের আপিল আদালত ল্য পেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেওয়ার পর সেই আশার প্রদীপ প্রায় নিভেই গেছে।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী প্রধান ভয় পান জঁ-লুক মেলঁশোঁকে
ইউরোর শেষ দুর্গের নাম ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ইসিবি। কোনো দেশের সরকার যখন অর্থনীতির প্রচলিত নিয়মকানুন নিয়ে ছেলেখেলা করতে চায়, তখন তাকে ঠেকানোর দায়িত্ব এই ব্যাংকের। কিন্তু এবার সেই দুর্গের দেয়ালেই যেন ফাটল ধরার উপক্রম। কারণ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ। নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তিনি। আর তাঁর প্রতিশ্রুতি, ফ্রান্সের কয়েক শ কোটি ইউরোর ঋণকে তিনি একেবারে ‘আগুনে পুড়িয়ে’ ফেলবেন!

তাঁর পরিকল্পনা আরও চমকপ্রদ। ফ্রান্সের বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ডের সুদ মওকুফ করতে হবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বসে থাকা ইসিবিকে। অর্থাৎ ঋণ থাকবে, কিন্তু সুদ থাকবে না। অর্থনীতির প্রচলিত হিসাবের খাতায় এমন কাণ্ডকে কেউ কেউ অসম্ভব বলছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর পরিণতিতে ফ্রান্সকে ইউরোজোন থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে।
এদিকে জানা গেছে, ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ আগামী ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়বেন। ফলে ফ্রান্সের বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা কী করতে চান, তা এখন লাগার্দের উত্তরসূরি নির্বাচনের দুঃস্বপ্নেও ঢুকে পড়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় এগিয়ে আছেন নেদারল্যান্ডসের ক্লাস নট ও স্পেনের পাবলো হার্নান্দেজ দে কস।

লবিস্টদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে চ্যাটজিপিটি
আগে আইনপ্রণেতারা কোনো আইনের সংশোধনী জমা দিতেন। এখন সংশোধনীর বন্যা বইছে। জেনারেটিভ এআই আসার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর ওপর হাজার হাজার সংশোধনী প্রস্তাব জমা পড়ছে। পার্লামেন্টের কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করেন না, ব্যাপারটা নিছক কাকতালীয়। তাদের কারও কারও সন্দেহ, অনেক সংশোধনীর ভাষা এতটাই যন্ত্রের মতো যে সেগুলো মানুষ লিখেছে, নাকি বটবাহিনী—তা বোঝাই দায়। আবার কোনো কোনো সংশোধনীতে এমন আইনের উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই! এই সংশোধনীর পাহাড় এখন লবিস্ট, পার্লামেন্টের সহকারী ও কর্মকর্তাদের মাথাব্যথার কারণ। হাজার হাজার প্রস্তাব খুঁজে বের করা, যাচাই করা, সাজানো—সবই তাদের করতে হচ্ছে। তার ওপর আরেক ভয়: একদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি তাদের চাকরিটাই খেয়ে ফেলে? আর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের কথা ভাবুন। তাদের হয়তো একে একে প্রতিটি সংশোধনীর পক্ষে বা বিপক্ষে হাত তুলতে হবে। সাতশো কুড়ি জনের হাত উঠবে, নামবে—কাজ শেষ হতে হতে হাতের কাঁধে যে ব্যথা ধরবে, তার চিকিৎসা কে করবে?
ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তারা ভয় পান অস্ট্রিয়ার ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রীকে
ইউরোপীয় কমিশনের বেশভূষাধারী কর্মকর্তারা—এমনকি তাদের পরিবারের লোকজনও—এখন একটু সাবধানে চলাফেরা করেন। কারণ, তাদের মাথার ওপর ঝুলছে অস্ট্রিয়ার ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী ক্লদিয়া বাউয়ারের কৃপাণ। বাউয়ারের লক্ষ্য, আগামী সাত বছরের বাজেটে ইউরোপীয় কমিশনের প্রশাসনিক খরচ কমানো। এই খরচের মধ্যে আছে ইউরোক্র্যাটদের বেতন, অফিস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। ইউরোপের অধিকাংশ রাজধানীর সমর্থন নিয়ে তার এই অভিযান ইতিমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। নতুন বাজেট প্রস্তাবে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। বাউয়ারের ভয় এমনই যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা মজা করে বলেন, অস্ট্রিয়া সফরে যাওয়ার সময় তারা নিজেদের প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা কমিয়ে দেন। বেশি লোক নিয়ে গেলে যদি খরচের হিসাব ধরতে বসেন মন্ত্রী মহোদয়া!

জেসিকা রোজওয়াল ভয় পান স্তেফান সেজুরনে ও ভালদিস দোমব্রোভস্কিসকে
পরিবেশবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার জেসিকা রোজওয়াল। তার দপ্তরের নাম শুনলে মনে হয়, পরিবেশ রক্ষাই বুঝি তাদের প্রধান কাজ। কিন্তু মুশকিল হলো, শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাজারবিষয়ক কমিশনার স্তেফান সেজুরনে এখন আসন্ন সার্কুলার ইকোনমি অ্যাক্ট বা বৃত্তাকার অর্থনীতি আইন তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অথচ রোজওয়ালের সরকারি পদবিতেই রয়েছে ‘প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তাকার অর্থনীতির কমিশনার’ কথাটি। ব্যাপারটা আরও ভুতুড়ে। রোজওয়ালের পরিবেশবিষয়ক দপ্তর আর সেজুরনের শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাজারবিষয়ক দপ্তর এখন একই ভবনে—ব্রেইডেল ভবনে। ফলে করিডরে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সব সময়ই রয়েছে। একদিকে রোজওয়াল পরিবেশ রক্ষার নিয়মকানুন আরও শক্ত করতে চান, অন্যদিকে সেজুরনের মাথায় শিল্পের বিকাশ। দুই পক্ষের দেখা হলে করিডরের বাতাস যে খুব একটা আরামদায়ক থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য।
রোজওয়ালের দুশ্চিন্তার এখানেই শেষ নয়। ইউরোপীয় কমিশনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর দায়িত্বে থাকা ভালদিস দোমব্রোভস্কিসও তাঁকে চাপে রেখেছেন। পরিবেশবিষয়ক কয়েকটি আইনের নিয়মকানুন শিথিল করতে চান তিনি। তাঁর লক্ষ্য, বছরের শেষ হওয়ার আগেই একটা সমঝোতায় পৌঁছানো।
এর ওপর ইউরোপীয় পিপলস পার্টি চাইছে, পাখি, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও পানি সুরক্ষার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুরোনো আইনগুলোও নতুন করে খোলা হোক। উদ্দেশ্য, সেগুলোকে আরও সহজ-সরল করা। পরিবেশ রক্ষার আইন যত সরল হয়, পরিবেশের বিপদ তত জটিল হয়ে ওঠে কি না, সে প্রশ্ন অবশ্য অন্যত্র।
আলেকজান্ডার স্টাব ভয় পান কাজা কাল্লাস ও আন্তোনিও কস্তাকে
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেছিলেন। এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে পুতিনের সঙ্গে এমন যোগাযোগ যে তার খুব পছন্দ নয়, তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। পুতিন যদি সত্যিই আলোচনায় বসতে চান এবং কিছু ছাড় দিতে রাজি হন, তাহলে ফোন ধরার দায়িত্ব কার? উত্তর খুব সহজ—কাজা কাল্লাসের। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি সমন্বয় করাই তার কাজ। সেপ্টেম্বরে এস্তোনিয়ার সংবাদমাধ্যম তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, পুতিন বা রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে কথা বলবেন কি না। কাল্লাসের উত্তর ছিল, ‘অবশ্যই। এমন সুযোগ এলে আমি কথা বলব।’
কিন্তু ফোনের পাশে আরেকজনও বসে আছেন—ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের বক্তব্য, বিদেশে রাষ্ট্রনেতাদের পর্যায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব তারও রয়েছে। ফলে কে ইউরোপের হয়ে কথা বলবেন, তা নিয়ে ক্ষমতার অলিগলিতে খানিকটা ঠেলাঠেলি চলছে। সম্ভবত এ কারণেই স্টাব জোর দিয়ে বলেছেন, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স স্টোরের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা ছিল নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে; সমগ্র ইউরোপের হয়ে নয়।
মানফ্রেড ভেবার ভয় পান নিজের দলের লোকজনকেই...
ইউরোপের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবার ইউরোপীয় পিপলস পার্টির নেতা মানফ্রেড ভেবার। তার রাতের ঘুম কেড়ে নেয় বাইরের কোনো শত্রু নয়, বরং নিজের দলের ভেতরের বিভেদ। এত দিন ভেবার দলকে বেশ শক্ত হাতেই সামলেছেন। ২০২৯ সালের ইউরোপীয় নির্বাচনের আগে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে চান তিনি। সেই নির্বাচনকে তিনি দেখছেন কট্টর ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে এক বড় লড়াই হিসেবে। কিন্তু মুশকিল হলো, তার দলের সদস্যদের মধ্যেই মতের মিল নেই। কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে কাজ করা উচিত, নাকি তাদের একঘরে করে রাখা উচিত—এই প্রশ্নে জাতীয় পর্যায়ের দলীয় প্রতিনিধিরা ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছেন। নিজের দলের লোকজনকেই যদি সামলাতে না পারেন, তাহলে বাইরের ভূত তাড়াবেন কী দিয়ে?
...আর দলের লোকজন ভয় পায় ওয়ারদা বেনসুয়াগকে
ভেবারের দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ওয়ারদা বেনসুয়াগ। তিনি দলের মহাসচিব এবং ভেবারের চিফ অব স্টাফ। নেতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন। তার সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা, তিনি বুদ্ধিমতী, দক্ষ এবং প্রয়োজনে নির্মম। পার্লামেন্টের গোলকধাঁধার মতো করিডরে তাঁর সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলে দলের অনেক কর্মীর বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধক করে ওঠে। কেউ কেউ তাকে এড়িয়ে চলেন। কেউ আবার দূর থেকে দেখেই পথ বদলে ফেলেন। ইউরোপীয় পিপলস পার্টির কর্মীদের কাছে বেনসুয়াগের উপস্থিতি অনেকটা পরীক্ষার হলের পরিদর্শকের মতো—কখন যে সামনে এসে দাঁড়াবেন, বলা যায় না।

পার্লামেন্টকে কেউ ভয় পায় না... অথচ ভয় পাওয়া উচিত
আগামী দীর্ঘমেয়াদি বাজেট নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এত দিন ধরে সদস্যদেশগুলোর রাজধানীগুলোকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই চেষ্টা অনেকটা বাঘের গর্জনের মতো—শব্দ প্রচুর, প্রভাব সামান্য। পার্লামেন্ট বারবার হুমকি দিচ্ছে, বাজেট আটকে দেবে। কিন্তু সদস্যদেশগুলোর নেতারা যেন শুনেও শুনছেন না। তাদের ভাবখানা এমন, পার্লামেন্টের হুমকি মানে বোধ হয় বৃষ্টির দিনে ব্যাঙের ডাক। কিন্তু সাবধান! পার্লামেন্টকে একেবারে অবহেলা করা ঠিক হবে না। বাজেট পাস করাতে ৭২০ জন সদস্যের মধ্যে অন্তত ৩৬১ জনের ভোট লাগবে। আর রাজনৈতিকভাবে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে থাকা পার্লামেন্টে এই সংখ্যাটি জোগাড় করা মোটেই সহজ নয়। বিশেষ করে কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নের তহবিল এক জায়গায় জড়ো করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন অনেক আইনপ্রণেতা।সদস্যরা যত বেশি চেঁচামেচি করবেন, আর ইউরোপীয় কাউন্সিল তাদের যত বেশি উপেক্ষা করবে, পার্লামেন্ট ততই জেদ ধরবে নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করতে।
তাই ব্রাসেলসের ক্ষমতাধরদের জন্য শেষ কথা: ভূত বলে কিছু নেই—এ কথা যারা বলে, তারা হয়তো কখনো ইউরোপীয় বাজেটের ভোটাভুটিতে যায়নি। সেখানে কখন কার ভোট কোথায় পড়ে, কোন নেতা কার মাথা খায়, আর কোন সংশোধনী কার চাকরি খায়—তা আগে থেকে বলা ভারী মুশকিল।
আর হ্যালোইনের রাতে এসব ভেবে ঘুম না এলে জানবেন, আপনার দোষ নেই। ব্রাসেলসে রাতের অন্ধকারে শুধু ভূতেরা নয়, রাজনীতিও ঘুরে বেড়ায়!


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









