বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

আনসার হবে ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

আনসার হবে ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাহিনীটি ভবিষ্যতে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’ হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

সফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমিতে বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং গভীর দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”

বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এর আগে সফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

পরে সেখানে রাখা বক্তব্যে এই বাহিনী উন্নয়নের সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আনসার এবং ভিডিপি বাহিনীর কাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা, ২০২৬. ‘ভিডিপি প্রবিধানমালা, ২০২৬, অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা, ২০২৬ এবং আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়া প্রণয়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে এই বাহিনীর কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে ‘উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

“প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরো জোরদার করার লক্ষে বাহিনীর সদর দপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে যা আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”

৪৬তম জাতীয় সমাবেশে আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর গৌরবজনক ভূমিকা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর গৌরবজনক ভূমিকা রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ থেকে আমি তাদের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।”

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রসঙ্গে টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল। দেশে এক অস্থিতিশীল এবং অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী-ভিডিপি এবং আনসার বাহিনী একীভূত হয়ে এই বাহিনীর কাঠামো আরও শক্তিশালী, দক্ষ এবং কার্যকর করে তোলা হয়।

“স্বাধীনতার ঘোষকের এই দূরদর্শী পদক্ষেপই আনসার ও ভিডিপিকে আজকের বহুমাত্রিক, জনসম্পৃক্ত ও গণপ্রতিরক্ষায় সক্ষম বাহিনীতে পরিণত করার ভিত্তি স্থাপন করেছে।”

তিনি বলেন, “এরপর খালেদা জিয়া সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাহিনী স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো থেকে একটি স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যা এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলেই আজকের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি গণমুখী প্রতিরক্ষা শক্তি এবং প্রান্তিক সক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।”

চব্বিশের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা সহায়তা দিতে এই বাহিনী ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যগণ সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সক্রিয় অবদান রাখছে।

“দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার-ভিডিপি'র যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক কর্মকর্তা এবং সদস্যদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আলোকে আপনাদের 'ভিশন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা' কাজ করবেন। আমি মনে করি, এই বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরো দক্ষ এবং গতিশীল করতে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো দেশেই যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য অনিবার্য এবং অবশ্য পালনীয় নীতি হচ্ছে, 'চেইন অব কমান্ড' এবং 'ডিসিপ্লিন' মেনে চলা। এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা পরিলক্ষিত হলেও কোনো একটি বাহিনী সুশৃঙ্খলবাহিনী হয়ে উঠতে পারে না।

“আপনাদেরকে এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো বাহিনীর মধ্যে ডিসিপ্লিনের অভাব পরিলক্ষিত হলে তাদের সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়, এ বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখা জরুরি।

“ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি...এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। আমি মনে করি, এই কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কলকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আনসার ভিডিপির ভূমিকা রাখার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

“এ বাহিনীটি কেবল নিরাপত্তা রক্ষা নয়, সামাজিক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে”, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আনসার বাহিনীর কিছু উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বহুমাত্রিক চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী।

“আমি মনে করি, এ ধরণের উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা দেশে বিদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”

তার কথায়, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এই বাহিনীর সাহসিকতা, দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা দৃষ্টান্তমূলক। একইসঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মত পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যগণ টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন বলে আমি মনে করি।

“ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যও প্রশংসনীয়। ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে পরপর ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করেন।”

আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, “ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে যেসব খেলোয়াড়গণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন, একটি বেতন কাঠামোর আওতায় এনে বর্তমান সরকার তাদেরকে স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে। আপনারা নিঃসন্দেহে জেনেছেন, আনসার ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকেও বর্তমান সরকার স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে।”

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য ও ও সরকারি ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া একাডেমিতে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সদস্যদের তাঁত ও বুনন শিল্প, মৃৎ শিল্প, গবাদি পশু খামার, জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সদস্যদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কেও তিনি অবহিত হন।

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.