আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হতে দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস।
বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে ইভার্স ইজাবস বলেন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক দৃঢ় ও দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্কের প্রতি ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো ধরনের পরামর্শ দিতে বা কোনো বিষয় সংশোধন করতে আসিনি। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা এবং মিশন শেষে আমাদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামনে তুলে ধরা।’
তিনি আরও বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনটি যেন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়—এটাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাশা।
সিইসির সঙ্গে আলোচনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর কথা তুলে ধরে ইভার্স ইজাবস জানান, ইইউ চায় বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, যেখানে যথাযথভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইইউ’র ৬০ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ শুরু করেছেন। তারা নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ, প্রচারণা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি আগামী পরশুদিন থেকে স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদেরও বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।
এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা ভোটের দিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন বলেও জানান ইইউ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









