রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ একবার বলেছেন, গত এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় তিনি কিছুই জানেন না। আবার বলেছেন, সাংবাদিকরা যেমন শুনেছেন, তিনিও তেমনই শুনেছেন।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারকেই দায়িত্ব নিতে হয়, সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে শুরু করলে তাকে থামিয়ে দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এটা তো অনুমান নির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন তা তো আমি জানি না। রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি।”
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার ফেরার জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই বুধবার প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়।
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সময় স্পিকারকে দেশে বা সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে, সংবিধানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারকে দায়িত্ব নিতে হয়।
সে কারণে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে স্পিকারকে শুক্রবার দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয় বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরেন স্পিকার। শাহজালাল বিমানবন্দরে তার অপেক্ষাতেই ছিলেন সাংবাদিকরা।
তাদের মুখোমুখি হয়ে স্পিকার বলেন, “আমি ১৯ তারিখে, এই মাসের ১৯ তারিখে ব্যাংককে গিয়েছিলাম আমার মেডিকেল চেকআপের জন্য। গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ শেষ হয়েছে। সেই কারণে আমি দেশে চলে এসেছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলার নাই। সবাইকে ধন্যবাদ।”
তাতে দমে না গিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “একটা বড় বিষয় নিয়ে অনেক গুঞ্জন চলছে যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টা... আসলে স্যার, এ বিষয়ে আপনারা কিছু অবগত কি না? আর আরেকটু সামনে যেটা জানতে চাই, যদি উনি (পদত্যাগ) করে থাকেন, সেই ক্ষেত্রে…।”
স্পিকার বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করল, কী করল—আমার কিছুই জানা নাই। এখন হয়ত জানতে পারব। মানে, আমি জানি না।”
এরপর সংবিধানের নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সাংবিধানিক পজিশন। ধন্যবাদ।”
কিন্তু এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে যেতে থাকেন।
স্পিকার তখন বলেন, “আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি।”
২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল, আগে কেন ফিরলেন, সেই প্রশ্ন করলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমার একটু ব্যক্তিগত কাজ আছে... কালকে আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যেই আমি এসেছি।”
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তো পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপরই বর্তাবে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, “এটা ট্র্যাডিশনালি বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন অ্যাক্টিং (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন।
“বাট (কিন্তু) মূল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হল সংসদের পজিশন। থ্যাংক ইউ।”
সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা স্পিকারকে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অভ্যর্থনা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সরাসরি সংসদে ভবনে স্পিকারের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তার গাড়ির সামনে পেছনে নিরাপত্তার বাাহিনীর গাড়ি দেখা যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









