তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিশ্বে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানবতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধভিত্তিক একটি সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। মানুষের চিন্তা ও মূল্যবোধই সমাজ ও সভ্যতার গতিপথ নির্ধারণ করে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের অন্যতম ভিত্তি হলো তার দর্শন। সুস্পষ্ট জীবনদর্শন ছাড়া মানুষ তার মানবতা ও সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না। জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের পর মানুষ যখন চিন্তার অবকাশ পেয়েছে, তখন থেকেই ‘আমি কোথা থেকে এসেছি’ এবং ‘কোথায় যাব’—এমন মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়েই দর্শনের বিকাশ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধর্ম দর্শনচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ধর্মেই মানবকল্যাণের শিক্ষা থাকলেও ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও মতধারার কারণে নানা ধরনের দার্শনিক চিন্তার বিকাশ ঘটেছে। সনাতন ধর্মের মতো ইসলামেও বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও চিন্তাধারার উপস্থিতি রয়েছে, যা দর্শনের বহুমাত্রিক চরিত্রকে তুলে ধরে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পৃথিবীর যেকোনো সংকট মোকাবিলায় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি বা সমাজ সংকটের ইতিবাচক সমাধান খুঁজে পায়, আর সংকীর্ণ মানসিকতা বিভাজন ও সংঘাতকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতা ও শান্তি সংকটের প্রেক্ষাপটে তিনি চিন্তাবিদ, গবেষক ও দার্শনিকদের একটি অভিন্ন দার্শনিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যা মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









