বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।”
রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “পর্যায়ক্রমে দেশের সব খাল-বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
কৃষকদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে। কৃষি খাতের উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে স্নাতক পর্যন্ত নারী শিক্ষা বিনামূল্যে করা হবে। ভালো ফলাফল করা ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি সারাদেশের দরিদ্র ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কাজ করলে মানুষের উপকার হবে, সরকার সে কাজই করতে চায়।’ জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তনকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন সরকারপ্রধান। বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তখনই কিছু দল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজপথে বিশৃঙ্খলা করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “দেশকে এগিয়ে নেওয়ার এখনই সময়। ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে মানুষ; এখন সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামতে কাজ করতে হবে।” দেশের উন্নয়নে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের যদি উন্নয়ন হতো, তাহলে দেশের এ অবস্থা কেন?’ অতীতে অপরিকল্পিত কাজের কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে মানুষকে কষ্ট পেতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের ও জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করবে না সরকার। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









