রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে অস্ত্র নিয়ে নিজেই মাদকের আস্তানার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ও সন্ধ্যায় ইশরাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করা হয় বিকেল সোয়া ৫টায় এবং দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৬টায়।
প্রথম ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়—‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ।’
১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওটির শুরুতেই প্রতিমন্ত্রীকে গাড়ি থেকে পিস্তল হাতে নামতে দেখা যায়। মুখে মাইক লাগিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দাঁড়াও। এখন বসো। পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে। তোরা শহরটাকে ধ্বংস করতে চাস। এলাকাটাকে ধ্বংস করতে চাস।’
এ সময় তাকে হাতের পিস্তল উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে তার সহযোগীদেরও দৌড়ে গিয়ে অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়, যার মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও বেশ কয়েকজনকে ধরে ফেলা হয়।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়—‘লাইভ অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলেন ইশরাক, বিক্রেতারা ধরা।’ এই ভিডিওটিতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।
পরে ইশরাকের মিডিয়া সেলের পক্ষে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, “এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।”
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হাতজোড় করলে তাদের আশ্বস্ত করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “তোমাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না, তোমাদের কেউ কিছু করবে না। তোমরা থানায় যাবা, পুলিশ তোমাদের ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের মারার জন্য আমরা আসি নাই। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে।”
এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘‘প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









