২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। চালকদের বেতন, কর্মঘণ্টা, শারীরিক সক্ষমতা, যানবাহনের ফিটনেস এবং পরিবহন খাতে হয়রানির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল সড়ক নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এমন একটি নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। এ জন্য নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, যানবাহনের মান নিশ্চিত করা, সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ বলেন, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামানো উচিত নয়। একটি দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানি ও মালিকেরা। তবে যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেস নিশ্চিত করতে গিয়ে মালিকেরা যাতে অযথা হয়রানি কিংবা আর্থিক ভোগান্তির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে যেন অন্যায় আচরণ না করা হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সেবা নিতে এসে কাউকে হয়রানির মুখে পড়তে না হয়।
সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে পেশাদার চালকদের স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো প্রতিরোধ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, বেপরোয়া গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, এ ক্ষেত্রে কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু নন। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে। নিজের, পরিবারের এবং অন্য মানুষের জীবন সুরক্ষায় প্রত্যেককে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









