রাষ্ট্র আছে, সরকার আছে, রাজনীতিও আছে- কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর কেন্দ্রে কি সত্যিই নাগরিক আছে? একটি রাষ্ট্রের শক্তি কি কেবল তার প্রশাসনিক ক্ষমতায়, নাকি নাগরিকের আস্থায়? রাজনীতির সাফল্য কি ক্ষমতা দখলে, নাকি সেই ক্ষমতাকে জনস্বার্থে ব্যবহারে? আর গণতন্ত্র কি কেবল ব্যালট বাক্সে নির্দিষ্ট সময় পরপর ভোট দেওয়ার নাম, নাকি প্রতিদিনের রাষ্ট্রচর্চায় স্বাধীনতা, অধিকার, ভিন্নমত ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা বা তা কার্যকর থাকার প্রমাণ?
এই প্রশ্নগুলো আলাদা নয়; একই সূত্রে গাঁথা। কারণ রাষ্ট্র দেয় ক্ষমতার কাঠামো, রাজনীতি নির্ধারণ করে সেই ক্ষমতার ব্যবহার, আর গণতন্ত্র ঠিক করে ক্ষমতার মালিকানা কোথায় এবং তার সীমা কতদূর। এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য থাকলে রাষ্ট্র হয় নাগরিকমুখী, রাজনীতি হয় জনকল্যাণমুখী, গণতন্ত্র হয় অর্থবহ। বিপরীতে ক্ষমতা যখন রাষ্ট্রের ওপর, দল যখন রাজনীতির ওপর এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা যখন অধিকার ও জবাবদিহির ওপর প্রাধান্য পায়, তখন গণতন্ত্রের কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকলেও তার অন্তর্গত প্রাণশক্তি ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। তিনটিই তখন বিপদে পড়ে। রাষ্ট্রের অস্তিত্বের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ।
ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্য; কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রের প্রকৃত বৈধতা নির্ভর করে নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর। রাষ্ট্রের ক্ষমতা তাই নিজেই কোনো চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; নাগরিকের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষাই তার মূল উদ্দেশ্য। রাষ্ট্র যখন এই ভূমিকা থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার যন্ত্রে পরিণত হয়, তখন তার প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি থাকলেও গণতান্ত্রিক বৈধতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
গণতন্ত্র তখন অস্তিত্ব সংকটে ভোগে। আর রাষ্ট্রের সেই ক্ষমতা কীভাবে অর্জিত, পরিচালিত ও বণ্টিত হবে- তার কেন্দ্রে রয়েছে রাজনীতি। রাজনীতি মানে কেবল নির্বাচন, রাজনৈতিক দল কিংবা সরকার গঠন নয়; রাজনীতি হলো সমাজের বিভিন্ন স্বার্থ, দাবি ও মতকে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা। ক্ষমতা রাজনীতির অপরিহার্য উপাদান, কিন্তু মুখ্য নয়। ক্ষমতার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে রাজনীতি কতটা জনমুখী, কতটা কল্যাণমুখী। ক্ষমতা যদি জনস্বার্থ, ন্যায় ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হয়, রাজনীতি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়; আর ক্ষমতা যদি ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় আধিপত্য কিংবা প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত হয়, রাজনীতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে।
এখানেই গণতন্ত্রের গুরুত্ব কিংবা তাৎপর্য। গণতন্ত্র মূলত ক্ষমতার ওপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ব্যবস্থা। কিন্তু গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচন দিয়ে সংজ্ঞায়িত করলে তার পরিধিকে সংকুচিত করা হয়। নির্বাচন গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত, কিন্তু গণতন্ত্রের পূর্ণতা নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠনের অধিকার, বিরোধী মতের নিরাপত্তা, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক সরকার, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং নাগরিকের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ- এসবের সমন্বয়েই গণতন্ত্র অর্থবহ হয়ে ওঠে। তাই গণতন্ত্রের প্রকৃত পরীক্ষা ভোটের দিনে যতটা, তার চেয়ে বেশি ভোটের আগের ও পরের সময়ে।
নাগরিক কি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন? রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কি নিরাপদে সমালোচনা করতে পারছেন? রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কি দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করতে পারছে? ক্ষমতাসীনরা কি আইনের কাছে জবাবদিহি করছেন? আইনের শাসন কতটা কার্যকর? রাষ্ট্র কতটা মানবিক এবং সরকার জনস্বার্থে কতটা আন্তরিক? এসব প্রশ্নের উত্তরই বলে দেয় একটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্র কতটা গভীরে প্রোথিত। গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তি হলো ভিন্নমতের স্বীকৃতি। একটি সমাজে মতভিন্নতা থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। যেখানে ভিন্নমত নেই, সেখানে গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরের শত্রু নয়; তারা একই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুই অপরিহার্য পক্ষ। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, বিকল্প নীতি উপস্থাপন করবে এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখবে। এই ভারসাম্যই প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ। অতএব, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা নয়, মোকাবিলা করাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়; প্রতিবাদ থাকবে, কিন্তু সহিংসতা নয়; সমালোচনা থাকবে, কিন্তু ব্যক্তিগত অপমান নয়। রাজনৈতিক ভাষার শালীনতা কোনো অলঙ্কার নয়- এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অন্যতম সূচক। গণতন্ত্রে রাজনীতির শুদ্ধ চর্চা অত্যাবশ্যক।
রাজনীতির শুদ্ধ চর্চার সংস্কৃতি শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের আচরণে সীমাবদ্ধ থাকবে তা কিন্তু নয়। গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নাগরিকের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও নির্ভরশীল। নাগরিক শুধু ভোটার নন; তিনি রাষ্ট্রের অংশীদার। তিনি যেমন নিজের অধিকার দাবি করবেন, তেমনি অন্যের অধিকারকেও সম্মান করবেন। প্রশ্ন করবেন, সমালোচনা করবেন, তথ্য যাচাই করবেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক মত প্রকাশ করবেন। সকল প্রকার উচ্ছৃঙ্খলতা, অগণতান্ত্রিক ভাষা ও আচরণ, অসহিষ্ণুতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও মব সৃষ্টির প্রবণতা থেকে দূরে থাকবেন। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, গণতান্ত্রিক মানসিকতাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
এটা না থাকলে গণতন্ত্র হয়ে ওঠে দুর্বল ও অপরিপক্ব। এখানে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অবশ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সংগঠিত করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব দেয়। কিন্তু দলের ভেতরেই যদি গণতন্ত্রের চর্চা না থাকে, নেতৃত্ব যদি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হয়, মতভিন্নতার সুযোগ যদি সংকুচিত হয় এবং যোগ্যতার পরিবর্তে অন্ধ আনুগত্য প্রাধান্য পায়, তাহলে সেই দল বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে পারে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের পূর্বশর্ত হিসেবে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত না থাকলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা, সুশাসন এবং নাগরিক অধিকারের ওপর। এতে দেশ ও দল সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়। দেশ পরিচালনায় একনায়কতন্ত্রের ঝুঁকি বাড়ে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্র, রাজনীতি ও গণতন্ত্র সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে আইনের শাসন। গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ক্ষমতাসীনসহ প্রত্যেক নাগরিক আইনের সমান সুরক্ষা ও সমান বাধ্যবাধকতার অধীন থাকবে- এটাই আইনের শাসনের মৌলিক দর্শন। ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোন, রাজনৈতিক দল যত প্রভাবশালীই হোক, রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান যত ক্ষমতাবানই হোক- কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না।
আইনের প্রয়োগে বৈষম্য তৈরি হলে রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা ক্ষয়ে যায়, আর আস্থার সংকট গণতন্ত্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে। রাজনীতির চরিত্র হনন করে। রাষ্ট্রকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্র, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার মূল্যায়ন শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা, তা দিয়ে করা যথেষ্ট নয়। দেখতে হবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক, রাজনৈতিক দলগুলো কতটা গণতান্ত্রিক, সংসদ কতটা কার্যকর, বিচারব্যবস্থা কতটা স্বাধীন, গণমাধ্যম কতটা মুক্ত এবং নাগরিক কতটা নিরাপদে তার মত প্রকাশ করতে পারেন।
আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার নীতি কতটা কার্যকর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার প্রতিযোগিতাকে অনেক সময় নীতিগত প্রতিযোগিতার বদলে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখা। ফলে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার বদলে তাকে দুর্বল বা নিশ্চিহ্ন করার প্রবণতা তৈরি হয়। এর প্রভাব শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানও ধীরে ধীরে দলীয় প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে পড়ে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে রাজনীতিকে নীতি, যুক্তি, জনস্বার্থ ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি।
কারণ, শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে কেবল শক্তিশালী সরকার নয়। শক্তিশালী রাষ্ট্র হলো এমন রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি ও দলের চেয়ে শক্তিশালী; আইন ক্ষমতার চেয়ে শক্তিশালী; নাগরিকের অধিকার রাষ্ট্রের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয় এবং ক্ষমতাসীনরাও জবাবদিহির বাইরে নন। একইভাবে শক্তিশালী গণতন্ত্র মানে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়; সংখ্যাগরিষ্ঠের পাশাপাশি সংখ্যালঘুর অধিকার, ভিন্নমতের নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের সম্পর্কের কেন্দ্রে একটি মৌলিক প্রশ্নই থাকে- ক্ষমতা কার জন্য এবং কার কাছে জবাবদিহি করবে?
যদি রাষ্ট্র হয় নাগরিকের জন্য, রাজনীতি হয় জনস্বার্থের জন্য এবং ক্ষমতা থাকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে, তবে রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে, রাজনীতি হবে কল্যাণমুখী এবং গণতন্ত্র হবে টেকসই। আর যদি রাষ্ট্রকে দলীয় স্বার্থের অধীন করা হয়, রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় নামিয়ে আনা হয় এবং গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে রাষ্ট্রের বাহ্যিক কাঠামো যতই শক্তিশালী দেখাক, তার ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পড়তে বাধ্য। তাই আমাদের সামনে মূল কাজ শুধু নির্বাচন করা নয়; গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করা।
এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সম্মান- এই ভিত্তিসমৃদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সেই পথে চলা। রাষ্ট্র হবে নাগরিকের, রাজনীতি হবে জনস্বার্থের এবং গণতন্ত্র হবে জনগণের ক্ষমতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা- এই সমন্বয়ই একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি। বাংলাদেশকে আমরা তাত্ত্বিকভাবে গণতান্ত্রিক এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে কেবল কাগজে-কলমে দেখতে চাই না।
আমরা চাই বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হয়ে উঠুক। তার রাজনীতি ও রাজনীতিচর্চার জায়গাগুলো পরিশীলিত ও মর্যাদাসম্পন্ন হয়ে উঠুক, হাইব্রিড গণতন্ত্রের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে উন্নত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হয়ে উঠুক। ভঙ্গুর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুক।
লেখক : অধ্যাপক, কবি ও কলামিস্ট


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









