গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
তিনি বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শুধু শিল্পখাতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।”
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের জরুরি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পকারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারছে না। কোথাও উৎপাদন কমে গেছে, আবার কোথাও কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারখানা বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন শ্রমিকরা। তারা কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন। এর প্রভাব তাদের পরিবারেও পড়ছে।”
তিনি বলেন, “গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটও শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ না থাকলে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। উৎপাদন ব্যাহত হলে একদিকে উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপরও এর চাপ পড়ে।”
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “এই সংকটকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং দেশের অর্থনীতির বিষয় জড়িত। সরকারকে দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সভায় জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধান করা জরুরি। শিল্পকারখানা সচল না থাকলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
নির্বাহী চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পখাতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।”
জরুরি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সুনীল শুভ রায়, প্রেসিডিয়াম সদস্য জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. শাহজাহানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সভায় দেশের চলমান পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং এর ফলে শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের ওপর সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতারা দ্রুত সংকট নিরসনের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









