ইংল্যান্ড জাতীয় দল ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এবার দারুণ একটি মৌসুম কাটানোর পর ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সঙ্গে তার সেই স্মরণীয় সাক্ষাৎ এবং স্বদেশি জুড বেলিংহামের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম “মার্কা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনোনয়ন প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে কেইন বলেন, "বিষয়টা বেশ জটিল। নিজেকে নিয়ে বেশি কথা বলতে আমি কখনোই পছন্দ করিনি। শুধু এটুকু বলতে পারি, গত মৌসুমটা ব্যক্তিগত ও দলগত—দুই দিক থেকেই দুর্দান্ত কেটেছে। এটি ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা মৌসুম।”
তিনি আরও বলেন, “৭৩ গোল করাটা—যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, লিওনেল মেসির ৮২ গোলের (২০১১-১২ মৌসুমে ৬৯ ম্যাচে) পরই—নিজেই অনেক কিছু বলে দেয়। এ নিয়ে আমি গর্বিত। এই অর্জনের জন্য সতীর্থ ও যারা আমাকে সাহায্য করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
স্ট্রাইকার বলেন, “কিন্তু ব্যালন ডি’অর তো আমার হাতে নেই। এটা নির্ভর করে যারা ভোট দেন তাদের ওপর। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, গত মৌসুম এখন অতীত। এখন আমি চলতি মৌসুমের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি এবং দেখতে চাই আর কী অর্জন করতে পারি। জানি, অক্টোবর পর্যন্ত ব্যালন ডি'অর নিয়ে অনেক আলোচনা হবে, কারণ এটি একটি বড় পুরস্কার।”
মেসি প্রসঙ্গে কেইনের মুগ্ধতা
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার সেই আলোচিত ম্যাচে মেসির মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে কেইন বলেন, “স্পষ্টতই সেদিনটা আমার জন্য কঠিন ছিল। ওভাবে বিদায় নেওয়ার পর মুহূর্তটা কষ্টের ছিল। কিন্তু মেসির প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। একজন ফুটবলার হিসেবে তাকে বেড়ে উঠতে দেখেছি আমি।”
তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, মেসি স্রেফ একজন অসাধারণ খেলোয়াড়ই নন, যারা তাকে চেনে তাদের কাছ থেকে যা শুনেছি, তাতে তিনি একজন চমৎকার মানুষও বটে। আমার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে মাত্র দুবার, কিন্তু আমার কাছে তাকে খুবই বিনয়ী মনে হয়েছে। তিনি সবসময় দলকে নিজের ঊর্ধ্বে রেখেছেন, আর আমার মনে হয় এ কারণেই আর্জেন্টিনা এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে।”
সেদিনের ঘটনা স্মরণ করে কেইন বলেন, “আমার মনে আছে, সেদিন আমি তাকে জড়িয়ে ধরে ফাইনালের জন্য শুভকামনা জানিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ আমাদের ভাগ্যে ছিল না, তবে এটাই বিশ্বকাপের নিয়ম—সেরা খেলোয়াড়রা সবচেয়ে বড় মঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হন, আর অবশ্যই কেউ না কেউ হারবেই।”
তিনি আরও বলেন, “সেদিন, হারের পরও আমি মাথা উঁচু রাখার এবং প্রতিপক্ষ দলকে সম্মান জানানোর চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে মেসির প্রতি—ফুটবলে বছরের পর বছর ধরে তিনি যা দিয়েছেন, তা বিবেচনা করে।”
বেলিংহাম-মরিনহো সম্পর্ক নিয়ে আগেই ভবিষ্যদ্বাণী ছিল কেইনের
মৌসুমের শুরুতে জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত ফর্ম প্রসঙ্গে কেইন বলেন, “বিশ্বকাপে জুড আর আমার সম্পর্ক খুব ভালো ছিল, কারণ আমরা যেভাবে খেলেছি এবং বল আদান-প্রদান করেছি। বল নিয়ে ও বল ছাড়া—দুই ক্ষেত্রেই আমাদের দারুণ বোঝাপড়া ছিল।”
তিনি বলেন, “মাঠের বাইরেও আমাদের মধ্যে বেশ দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যা জাতীয় দলের জন্যও সহায়ক হবে বলে মনে করি। মাদ্রিদে সে যেভাবে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে, তা দেখতে দারুণ লাগছে। বিশ্বকাপের সময় হোসে মরিনহোকে নিয়ে তার সঙ্গে আমার কিছুটা কথা হয়েছিল, আর আমি জানতাম, মরিনহোকে তার ভালো লাগবে।”
কেইন শেষে বলেন, “আর আমি এটাও জানতাম, মরিনহোরও জুডকে ভালো লাগবে। এখন স্পষ্টতই মনে হচ্ছে, তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে দারুণ একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জুড দারুণভাবে শুরু করেছে। আর ইংল্যান্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা দেখাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









