যশোরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ধাপে ধাপে ৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বর্তমানে ২০ শয্যার এই প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ধাপে ৩০ শয্যায় এবং পরে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে কেন্দ্রের চত্বরে নয়তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) যশোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সিজারিয়ান সেকশন সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যশোরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২০ শয্যার প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ৩০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পরবর্তী সময়ে এটিকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে যশোরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চত্বরে নয়তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এ-সংক্রান্ত প্রকল্প বর্তমানে একনেকে অপেক্ষমাণ রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন করিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শুধু ভবন নির্মাণ কিংবা শয্যা বাড়ালেই হবে না, এর সঙ্গে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার মানও নিশ্চিত করতে হবে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। চিকিৎসকদের কোনোভাবেই যেন-তেনভাবে সেবা দিয়ে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। রোগীদের মানসম্মত, নিরাপদ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সিজারিয়ান সেকশন সেবা চালুর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে যশোরের এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সিজারিয়ান অপারেশন ও ধাত্রী সেবার সুযোগ ছিল না। নতুন করে সিজারিয়ান সেকশন সেবা চালুর ফলে এখান থেকে মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়বে। এর মাধ্যমে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সেবা নিতে আসা মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক দিলদার হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং যশোরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সেবার পরিধি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে প্রতিমন্ত্রী যশোর নগর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডকোলজিস্ট অ্যাপের উদ্বোধন করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









