আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন লিটন কুমার দাস। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক, দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি—ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও একের পর এক কীর্তি গড়ছেন বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
সোমবার ৬০ বছর আগের একটি রেকর্ডে ভাগ বসানোর পাশাপাশি ভেঙেছেন খালেদ মাসুদ পাইলটের রেকর্ডও। এবার তার সামনে আরও বড় বিশ্বরেকর্ডের হাতছানি।
প্রথম ইনিংসে উইকেটের পেছনে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং করেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসেও এখন পর্যন্ত নিয়েছেন আরও তিনটি ক্যাচ। সব মিলিয়ে এই টেস্টে তার ডিসমিসালের সংখ্যা আট। এর মাধ্যমে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ২০০৪ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদ পাইলটের করা সাতটি ডিসমিসালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন লিটন।
তবে এখানেই থেমে থাকতে হচ্ছে না তাকে। টেস্টের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসাতে হলে লিটনকে আরও তিনটি ডিসমিসাল করতে হবে। শেষ দিনে উইকেটের পেছনে আরও তিনটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বিরল এই বিশ্বরেকর্ডের অংশীদার হবেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার।
উইকেটের পেছনে যেমন সফল, ব্যাট হাতেও তেমন উজ্জ্বল লিটন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে দুই ইনিংসে অন্তত অর্ধশতক এবং উইকেটের পেছনে আটটি ডিসমিসালের বিরল কীর্তিতে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।
এই কীর্তি এর আগে গড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ডিটি লিন্ডসে। ১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৬৯ ও ১৮২ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে আটটি ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি। ছয় দশক পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন লিটন।
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে তাই লিটনের সামনে ব্যক্তিগত কীর্তি আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকছে। ব্যাটিং ও উইকেটরক্ষণ—দুই বিভাগেই তার পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিশ্বরেকর্ডের সম্ভাবনাও তাকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









