আবুধাবি টেস্টে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশায় পুড়েছে বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিক, পাঁচ উইকেট, সেঞ্চুরি কত কিছুই না দেখল বাংলাদেশ। তবুও জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ। সেদিকুল্লাহ আতালের লড়াকু সেঞ্চুরি আর শেষ দিকে কায়েস আহমেদের দৃঢ়তায় ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চম দিনের শেষ সেশনের শেষ বল পর্যন্ত গড়ায় দুই দলের লড়াই। শেষ ১০ ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬৮ রান, বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩ উইকেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ইনিংস শেষ করে আফগানরা। কায়েস আহমেদ ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তার লড়াকু ব্যাটিংয়ে নিশ্চিত হয় ম্যাচের ড্র।
বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান সেদিকুল্লাহ আতাল। ৩৩২ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন এই আফগান ওপেনার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে থামে তার দীর্ঘ লড়াই। তবে আতাল আউট হওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ দিকে হাসান মাহমুদের ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কায়েস দলকে ড্র এনে দেন।
শেষ দিনের শেষ সেশনের শুরুতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আউট হন হাশমতউল্লাহ শহীদি। ৬৯ বলে ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠের বাইরে যাওয়ার পর ফিরে এসে আর ইনিংস বড় করতে পারেননি শহীদি। তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪ উইকেট।
এরপর আতালকে থামাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের বোলাররা। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন এই ওপেনার। এর আগে লাঞ্চের ঠিক আগে এবাদত হোসেনের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৩ রান করে ফেরেন ইকরাম আলীখিল।
তবে বিরতির পর লিটনের স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় জীবন পান আতাল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল আফগানিস্তান। আতাল ও ইকরামের জুটি ভাঙার পরও বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখে আফগান ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রানে ইনিংস শেষ করে তারা।
এর আগে চতুর্থ দিন ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আবদুল মালিককে ফেরান এবাদত হোসেন। ৫ বলে ২ রান করে আউট হন তিনি। এরপর হাসান মাহমুদের বলে ১৯ রান করা শহিদুল্লাহ ফিরলে ২৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানরা।
পরে রহমত শাহ ও আতাল প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ৮২ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১২৪ বলে ৫১ রান করে ফেরেন রহমত শাহ। তবে আতালকে থামানো যায়নি শেষ পর্যন্ত।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২, মুশফিকুর রহিমের ৮১ এবং লিটন দাসের ১০২ রানের ইনিংসে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় টাইগাররা।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে বল হাতে ইতিহাস গড়েছিলেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন তিনি, সঙ্গে নেন পাঁচ উইকেট। এবাদত হোসেনের চার শিকারে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৪০ রানে। এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৪৬ রান, ফলে ১০৬ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









