এশিয়া কাপের অনুকরণে ইউরো নেশন্স কাপের পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল কিছুদিন আগে। এবার জানা গেল, আফ্রিকাতেও এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে, যেটির নাম হবে আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপ।
আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ) তাদের কার্যক্রমের জন্য অর্থায়নের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা বিবেচনা করছে। গত বছর জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের (জেডসি) প্রধান তাভেংওয়া মুকুলানিকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার মাধ্যমে সংস্থাটি কার্যকরভাবে পুনর্গঠিত হয়।
সংস্থাটি বর্তমানে আর্থিকভাবে লাভজনক বলে বিবেচিত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। তবে ২০২৭ সালের আগে এই আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপ চালু করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এই মুহূর্তে প্রধান দুটি আলোচনার বিষয় হচ্ছে একটি আদর্শ সময় এবং এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়াটি কেমন হবে। প্রথম বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে মহাদেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম দল দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ এবং সমর্থনের ওপর, যারা নিজেরাও আইসিসির পরবর্তী ভবিষ্যৎ সফর সূচি (এফটিপি) তৈরি হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
এই আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত জড়িত একটি সূত্র ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) নীতিগতভাবে এই ধারণার প্রতি আগ্রহী হলেও, প্রস্তাবিত কোনো টুর্নামেন্টে তারা তাদের প্রথম পছন্দের দল পাঠাতে পারবে কি না, তা নির্ধারণ করার জন্য তাদের নিজস্ব সূচিতে জায়গা প্রয়োজন।
যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা এখন পাঁচ মাসের বিরতিতে আছে (মৌসুম শেষে শীতকালিন বিরতি), তবে সেপ্টেম্বরে আবার খেলা শুরু করবে তারা এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটানা খেলা আছে, যখন বর্তমান এফটিপির মেয়াদ শেষ হবে। নতুন এফটিপি, যার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তা আইসিসির পরবর্তী দুটি বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে এবং ২০২৭ সালের নভেম্বরের আগে প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বছর, ভিক্টোরিয়া ফলসে মোসি-ও-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন উপলক্ষে একটি ত্রি-সিরিজে অংশগ্রহণের জন্য জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের (জেডসি) সঙ্গে আলোচনা করছে সিএসএ, যেখানে নামিবিয়ার থাকারও সম্ভাবনা আছে। সিরিজটি অনুষ্ঠিত হলে, এটি যেকোনো সম্ভাব্য আফ্রিকা কাপের জন্য একটি প্রাথমিক পর্ব হিসেবেও কাজ করবে। আপাতত সম্ভাব্য সময় ঠিক করা হয়েছে আগামী অগাস্টকে। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই আসর ওয়ানডে সংস্করণেও হতে পারে। এই সিরিজ থেকে প্রাপ্ত আয়ের কিছু অংশ এসিএকে দেওয়া হবে এবং আফ্রিকা কাপের জ্বালানি হিসেবে তা কাজ করবে।
গত এক বছরে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সফরে বেশ আগ্রহ ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জিম্বাবুয়েতে সবশেষ টেস্ট খেলতে যাওয়ার ১১ বছর পর গত জুন-জুলাইয়ে সেখানে দুটি টেস্ট খেলেছে তারা, পাশাপাশি নিউ জিল্যান্ডকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টও খেলেছে। তারা গত অক্টোবরে উইন্ডহোকের নতুন নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম ম্যাচ খেলার জন্য দলও পাঠিয়েছিল।
আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে, পাশাপাশি জিম্বাবুয়েকে দুটি এবং নামিবিয়াকে একটি ভেন্যু বরাদ্দ করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে, কিন্তু সহযোগী দল হওয়ায় নামিবিয়াকে যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং তাদের স্থান নিশ্চিত নয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









