সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো আবারও রাজনৈতিক সহিংসতায় উত্তপ্ত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ২ বছরের মধ্যে এমন উত্তাল অবস্থা দেখেনি ক্যাম্পাসগুলো। ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ২ দিনেই আহত হয়েছে সাংবাদিকসহ অন্তত দেড়শতাধিক জন। সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয় রক্তাক্ত সংঘর্ষের। যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রাজনীতি বিশ্লেষকদের।
দিনভর একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে যে বা যারা এসব ঘটনায় জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা রয়েছে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে কোনো সন্ত্রাস বরদাশত করবো না। কেউ উসকানি দিলে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে বিলবোর্ড থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজনের ছবি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। পরে তীব্র বিতর্ক, সমালোচনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ইস্যুতে সংঘর্ষ ঘটেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। এ ঘটনায় বেরোবিতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। ঘটনার প্রেক্ষাপট অভিন্ন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি নিয়ে আপত্তি তোলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। যার মধ্যে সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবিও ছিল। তবে ছাত্রশিবির জানিয়ে দেয়, তারা কোনোভাবেই ওই ছবি অপসারণ করবে না। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
রাবির বিলবোর্ডেও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ নিয়ে আপত্তি জানায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাত পর্যন্ত আন্দোলন চলার পর তারা প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে দুই উপ-উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর প্রশাসন বিলবোর্ড থেকে বিতর্কিত ছবিগুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। তবে এখানে কোনো সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সেই রেশ কাটেনি গতকাল মঙ্গলবারেও। সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ঢুকতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও জকসু-শিবিরের নেতাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠান শেষে জকসু ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর হামলা চালায় জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে তিন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। দুপুর বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বেলা এগারোটার দিকে সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তান্তর ও বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা দিয়ে অস্থায়ী হল নির্মাণ ও মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগসংক্রান্ত দাবির কথা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এসময় ইনকিলাব মঞ্চেরও কিছু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস এবং জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সেক্রেটারি ফেরদৌস শেখ, জবি ছাত্র ফ্রন্টের ইভান তাহসিভসহ অন্তত ৭০ জন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে মুখোমুখি হয় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল। দুই পক্ষের হামলার ঘটনায় শিবিরের অন্তত ২০ ও ছাত্রদলের ৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সেই প্রোগ্রামের ব্যানার টানানোর সময় অতর্কিত হামলা চালায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলায় শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক আহত হয়েছেন। তাকে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নীলক্ষেতে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
গতকাল বিকাল ৪টার দিকে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ছাত্রদলের দুই নেতা। ক্যাম্পাসের ভেতরে ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতরা হলেন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) এবং লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭)। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকালে সানাউল্লাহ ও রাব্বি মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জন শিবির নেতাকর্মী রড, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুজনেই রক্তাক্ত জখম হন। পরে ক্যাম্পাসের অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
গতকাল বিকেল ৪টার পর আবারও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটাসহ অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় দল ঘটনাস্থলে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। গতকাল রংপুর মহানগরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বেরোবির প্রধান ফটকে নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে ছুরি, চাপাতি, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘তুমিও জান আমিও জানি, জামায়াত-শিবির সমকামী’, ‘শিবিরের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘জামায়াত-শিবিরের ঠিকানা, রংপুরে হবে না’, ‘জামায়াত-শিবির দেখে যা, রাজপথে তোর বাবারা’, ‘হই হই রই রই, জামায়াত-শিবির গেলি কই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে আশা এক যুবদল কর্মী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সঙ্গে সহমত ও সহমর্মিতা জানিয়ে এখানে অবস্থান নিয়েছি। এখান থেকে ওই রাজাকার, আল-বদরদের জানিয়ে দিতে চাই, ওদের জায়গা একাত্তরে যেমন বাংলাদেশে হয়নি, ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং রংপুরবাসী তাদেরকে বয়কট করেছে। তবে একই স্থানে কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও ঘটনাস্থলে আসেনি ছাত্রশিবির কিংবা তাদের অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা-কর্মী।
এ বিষয়ে বেরোবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, আমাদের বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। আমরা তাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে নিষেধ করেছি। পুরা রংপুর মহানগরের যেসব নেতা-কর্মীরা ছিলেন, আমরা তাদের বুঝিয়েছি। ক্যাম্পাসে ছাত্র ব্যতীত কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি গ্রুপ এখানে রয়েছে এবং আরেকটি গ্রুপ লালবাগ থেকে রওনা হয়েছিল ওখানেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই গ্রুপ দুই স্থানে অবস্থান করছে যেন মুখোমুখি সংঘর্ষ না হয়, সে জন্য আমরা ওপর মহলেও জানিয়েছি। তাজহাট থানার ওসিকেও জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। শিবির-সমর্থিত হল সংসদের এজিএসের কক্ষে বহিরাগত দুই তরুণের সমকামিতার অভিযোগ ঘিরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিয়ে দুই পক্ষই বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আধিপত্য বিস্তার ও আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ক্যাম্পাসগুলোতে এখন মুখোমুখি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। তিনদিনে
দেশের অন্তত ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। লাঠিসোঁটা, রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন। ঘটনার রেশ দেশের অন্য ক্যাম্পাসগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যে কোনো সময় অন্যান্য ক্যাম্পাসেও সংঘর্ষে জড়াতে পারেন ছাত্রদল-শিবির নেতাকর্মীরা। বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের এমন মুখোমুখি অবস্থানে তারা ভীতসন্ত্রস্ত। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেমন ক্যাম্পাসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল, ফের সেদিকেও হাঁটছে ছাত্রদল ও শিবির। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পর তারা নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রত্যাশায় ছিলেন। তাদের দাবি সরকার ও বিরোধীদল যেন তাদের ছাত্রসংগঠনকে সামলে রাখে। তা না হলে সাধারণ ছাত্ররাও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। ছাত্রলীগের অনুপস্থিতিতে মুখোমুখি হয়ে পড়ে একসময়ের বন্ধুভাবাপন্ন দুটি ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। তখন থেকেই একে অপরেরর বিরুদ্ধে নানান ট্যাগিং করছে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলকে ‘চাঁদাবাজ’, ‘খাম্বাদল’ ও ‘চাচ্চুদল’সহ নানা রকম ট্যাগিং করে আসছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলও শিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’, ‘রাজাকার’ বলে ট্যাগিং করে আসছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









