সরকারকে চাপে ফেলে সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। এজন্য বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। লিটারে আরো ৬ টাকা দাম বাড়ানোই চক্রটির টার্গেট। এজন্য মিলগেট থেকে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কৌশলে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ডিলার পর্যায়ে তৈরি হয়েছে সরবরাহ সংকট। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এতে পাড়া-মহল্লার দোকানে চাহিদামতো মিলছে না তেল। ফলে বাজারে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজান। এখন থেকেই দাম বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটি নজরদারিতে রাখা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণও নজরদারির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
চলতি মাসের শুরুতেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছিল ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপানকারী কোম্পানিগুলো। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম ছিল। মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেশ কিছুদিন ঠিক ছিল। এখন আবার কমেছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও নবোদয় বাজার ঘুরে ও ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা মুদিদোকানগুলোয় আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো বাজারে কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। তারা সয়াবিন তেলের দাম আরো কিছুটা বাড়াতে চায় বলে সরবরাহকারীরা (ডিলার) জানান। অবশ্য সব বাজারে যে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ সমানভাবে কমেছে, বিষয়টি এমন নয়। কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর বলেন, সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমার আরো একটি কারণ রয়েছে। এক ও দুই লিটারের বোতল বিক্রি করলে লাভ পাওয়া যায় খুব কম। এ কারণে অনেক এলাকার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা এই দুই আকারের বোতল কম বিক্রি করেন। সে তুলনায় পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি করলে তাঁদের লাভ বেশি থাকে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন মুদি দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ছিল না। এসব দোকানে অবশ্য পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ ছিল। মুদি দোকানিরা বলছেন, প্রতিদিন এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের চাহিদা প্রায় ২০ কার্টন। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দুই থেকে চার কার্টন। তাদের অভিযোগ, আগের মতোই সরবরাহ কমিয়ে বাজারে দাম বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর থাকলেও খোলা সয়াবিন তেল খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অথচ নির্ধারিত দাম ১৮০ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফলে নতুন করে সরকারি মূল্য নির্ধারণ না হলেও বাজারে বাড়তি দামের চাপ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের একটি শীর্ষ ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম অনেক বেড়েছে। আমাদের যে দামে কিনতে হয়, সে তুলনায় আমরা দাম বাড়াতে পারিনি। তবে মিল থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেনি বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বাকি ১০-১৫ শতাংশ অন্য ছোট কোম্পানি সরবরাহ করে। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে। বাড়তি মুনাফা করতে তারা বছরের একেক সময় তাদের ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। সরকারকে চাপে ফেলে সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করে মূল্য বাড়িয়ে নেয়। গত কয়েক বছর একই পন্থায় ওই চক্র সরকারকে চাপে ফেলে মূল্য বাড়িয়ে নিয়েছে। তবুও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ৫-১০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে গত ১১ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রস্তাবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি খোলা পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩ টাকা করার দাবিও জানানো হয়। ওই সময় সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রস্তাব দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হলেও সেখানে কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। পরে ২ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের দাবির তুলনায় কম হারে সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার। ওইদিন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়। মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হয় ২০৪ টাকা। এর আগে এক লিটারের বোতল ১৯৯ টাকায় বিক্রি হতো। অবশ্য ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে বাড়তি দামের কারণ দেখিয়ে প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় লিটারে পাঁচ টাকা দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা করা হয়। চলতি বছরেই দুই দফা বাড়ানো হয় ভোজ্যতেলের দাম।
ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, তাদের চাওয়া অনুযায়ী লিটারে ১০ টাকা দাম না বাড়ায় এখন সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারওয়ান বাজারের একটি সয়াবিন তেল ব্র্যান্ডের এক ডিলার বলেন, কোম্পানিগুলো আবারও তেলের দাম বাড়াতে চাইছে। এ কারণে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি থেকে কম তেল পাওয়ায় তারাও খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না। ওই ডিলারের ভাষ্য, কোম্পানির কাছ থেকে যতক্ষণ তেল পাওয়া যায়, ততক্ষণ তারা বাজারে সরবরাহ করেন। কোম্পানি সরবরাহ না করলে খুচরা পর্যায়ে দেওয়ার সুযোগ থাকে না। এর আগেও কয়েকবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দিকে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে গায়ে মুদ্রিত নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে। এক ও দুই লিটারের বোতল থেকেও লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, কোম্পানিগুলো বাজারে চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। সরবরাহকারীদের (ডিলার) কেউ কেউ তাদের জানিয়েছেন, তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এ কারণে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধানমন্ডির শংকর এলাকার মুদি দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমার পেছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। এক ও দুই লিটারের বোতল বিক্রি করে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কম। ফলে অনেক ডিলার ও দোকানি এসব বোতল কম রাখছেন। ৫ লিটারের বোতলে তুলনামূলক বেশি লাভ থাকায় সেটি বিক্রিতে তাদের আগ্রহ বেশি।
তবে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এর পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় প্রতি লিটার তেলে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে দাবি সংগঠনটির। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে।
অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের মূল্য বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দেশে বর্তমানে ভোজ্যতেলের সংকট নেই। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা সমন্বয় করেছে। এখন পর্যন্ত নতুন করে দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তারা আরও বলেন, দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যদি কোনো কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে উল্টো চিত্র
আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাসে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম কমলেও দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে সরবরাহের ঘাটতির কথা বলে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিংক শিট’-এর আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম আগের তিন মাসের তুলনায় কমেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার। জুনে ছিল ১ হাজার ১০৪ ডলার এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার। জুন-আগস্ট তিন মাসে গড় দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এর আগের এপ্রিল-জুন সময়ে গড় দাম ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ তিন মাসের গড় তুলনায় পাম তেলের দাম কমেছে ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল, মে ও জুনে সয়াবিন তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার। এই তিন মাসের গড় ছিল ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। অন্যদিকে জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। এ তিন মাসের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ আগের তিন মাসের তুলনায় সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার সঙ্গে দেশের পাইকারি বাজারের দামের মিল নেই। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেল প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দাম প্রায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেলের দাম প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকা।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেড় মাস আগেও খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের দাম ছিল মণপ্রতি প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পাম তেলের দামও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলাউদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের পাইকারি বাজারের দামের তুলনা করতে হলে শুধু টনপ্রতি আন্তর্জাতিক মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিতে হবে। সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও বর্তমান বাজারদরে প্রভাব ফেলছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পরও দেশের বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি নজরদারিতে রাখার প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন ব্যয় স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আগের বেশি দামে আমদানি করা তেল বাজারে থাকলে স্থানীয় বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমার প্রভাব নাও পড়তে পারে। আবার আমদানির পরিমাণ কমে গেলে বা সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও দাম বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে মোট ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ। সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ৬১ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই সময়ে সয়াবিন তেলের তুলনায় পাম তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে প্রায় ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং সয়াবিন তেল প্রায় ২৩ শতাংশ। কাস্টমস মূলত আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে। বাজারদর নির্ভর করে সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নানা বিষয়ের ওপর।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









