মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

কারওয়ানবাজারে চাঁদাবাজির বাহাস জামায়াত-বিএনপির

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম

আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম

কারওয়ানবাজারে চাঁদাবাজির বাহাস জামায়াত-বিএনপির

রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ানবাজারে দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়, যার মধ্যে কেবল কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে আদায় হয় প্রায় ৬০ লাখ টাকা। সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খানের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এই দাবিকে ‘ঢালাও অভিযোগ’আখ্যা দিয়ে জামায়াত এমপিকে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে দুই এমপির মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বাহাস চলে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে এই ঘটনা ঘটে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে  তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ায় মানুষের কষ্ট অনেক বেড়েছে। এ জন্য আগামী বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো ও জ্বালানির দাম আর না বাড়ানো প্রয়োজন। ক্যাব সভাপতির এই বক্তব্যের সূত্র ধরে দ্রব্যমূল্য বাড়ার পেছনে চাঁদাবাজির বিশাল প্রভাবের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন তেজগাঁও-কারওয়ানবাজার এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান। নিজের নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত এমপি সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আমি তো আসলে চাঁদাবাজি এরিয়ার এমপি।

আমাদের কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা কালেকশন হয়। সেখানকার কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। কারওয়ানবাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে পুরো একদিনের সময় লাগবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘এই চাঁদাবাজি যারা করে, ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, কিন্তু ভেতরে আসলে চাঁদাবাজ। আগের সরকারের লোকেরা এই কাজ করত, এখনকার সময়ে কারা করছে তা আর এই প্রকাশ্য টেবিলে বলছি না।’

জামায়াত এমপির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব বলছেন তার এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে অথচ তিনি জানেন না কারা করছে—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। কারা চাঁদাবাজি করছে তার একটা সুনির্দিষ্ট তালিকা তার কাছে থাকা উচিত ছিল এবং সেই তালিকা নিয়ে তার আইনের আশ্রয় নেয়া উচিত ছিল।’মাহমুদা হাবীবা আরো বলেন, ‘টকশো বা গোলটেবিল বৈঠকে বসে আমরা অনেক কথাই বলতে পারি। কিন্তু সুনির্দিষ্ট করে পাঁচটা নাম যখন আমরা দিতে পারি না, তখন সেটা ঢালাও বক্তব্য হয়ে যায়। আমার এলাকায় যে-ই চাঁদাবাজি করবে, সে সরকারি দল হোক বা বাইরের হোক, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব এবং আইনের আশ্রয় নেব। তাই আমি জামায়াত এমপির এই দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।

বিএনপি নেত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে সাইফুল আলম খান পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, আগেও সরকারি দলের লোকেরাই চাঁদাবাজি করত, এখনো সরকারি দলের লোকেরাই চাঁদাবাজি করছে। তিনি আরো বলেন, ‘কারওয়ানবাজার আমার এলাকার সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজির স্পট। আগের সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এই চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন, তিনি আমার মহল্লার লোক এবং আমি সব পরিষ্কার জানি। এই কারওয়ানবাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই অতীতে যুবদলের একজন নেতা (মুসাব্বির) নিহত হয়েছিলেন।

বিএনপির এমপি এখানে মামলা করার কথা বলছেন, কিন্তু পুলিশ আসলে সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে সহজে মামলা নিতে চায় না।’অবশ্য এই চাঁদাবাজি বন্ধে তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছি। একজন মন্ত্রী আমাকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি আন্তরিকভাবেই চাচ্ছি কারওয়ানবাজার, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে চলা এই চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ হোক।’

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.