তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক।
সোমবার (১৫ জুন) এই অর্থ ছাড় করা হয়।
ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা কমেছে। এতে ব্যাংকটির ওপর আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে একই দিনে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। দায়িত্ব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই।’ তিনি আমানতকারীদের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন চালিয়ে যেতে এবং ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
জহির হোসেন আরও জানান, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে তিনি এক সদস্যের বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
অন্যদিকে আলতাফ হুসাইন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া আগের ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পুরোটা এখনও ব্যবহার করতে হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা আতঙ্কে টাকা তুলে নিয়েছেন, তারা আবারও ব্যাংকে ফিরে আসবেন।
একটি বড় শাখার তথ্য অনুযায়ী, হিসাব বন্ধের হার আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে, যা গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ করে। চলমান ব্যাংক খাতের অস্থিরতা ও গ্রাহকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ জহির হোসেনই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব দায়িত্ব পালন করবেন।
সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ হিসেবে অভিযোগ তুলে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’সহ সাধারণ গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন এবং সাত দফা দাবি জানান। পর্ষদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে সরকারের পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি ওই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হলেও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে আবারও বিতর্ক শুরু হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটির পরিচালনা দায়িত্ব নিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









