দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার শুরু থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈশ্বিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধ, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের প্রয়োজন হলেও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রদানের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছু সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন ধীরগতির হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশোধিত বাজেটে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে মোট ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ সরকারের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সদস্যদের কাছে সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে উল্লিখিত দায়যুক্ত ব্যয় ছাড়া অন্যান্য ব্যয়ের জন্য মঞ্জুরি অনুমোদনের আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









