ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘ফিরে দেখা জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য অবদানের জন্য ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
আশুলিয়ার পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স অব ইউনিভার্সিটিজ ইন আশুলিয়া’-এর প্রশংসা করেন। এ সময় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সংসদ সদস্যের কাছে অ্যালায়েন্সের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
অ্যালায়েন্সের প্রস্তাবের আলোকে সংসদ সদস্য আশুলিয়া অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হায়ার এডুকেশন সিটি’ হিসেবে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি এ সিটির পরিকল্পিত উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য আবুল কাশেম হায়দার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান।
এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. শামসুল হুদা। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। এছাড়া শহীদ শাকিল পারভেজের পিতা মো. বেলায়েত হোসেন এবং শহীদ শ্রাবণ গাজীর পিতা মো. মান্নান গাজী তাদের আবেগঘন অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তাদের বক্তব্যে আন্দোলনের সময়কার ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মদানের নানা দিক উঠে আসে।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত ও সংগ্রামীদের সাহসিকতার প্রতি গভীর সম্মান জানান। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রভাষক ওমর ফারুক তামিম। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড প্লেসমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক কে. এম. মনিরুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মাহফুজুর রহমান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং গণ্যমান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









