বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষেরা বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন। আমি তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
শনিবার (১৫ আগস্ট) মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাত ও অসহায় দরিদ্রদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশে আমরা কখনো বলি না যে গত ৬ মাসে দেশের সকল উন্নয়ন করে ফেলেছি। এটি সম্ভব নয়, এটি অবাস্তব ব্যাপার। ফ্যাসিবাদী সরকার শুধু বিদ্যুৎ সেক্টরেই বিভিন্নভাবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা করে রেখে গেছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমি জানি, বিগত কিছুদিন যাবৎ সারা দেশে, গ্রামে-গঞ্জে ক্ষেত্র বিশেষে মফস্বল শহরে, উপজেলা-জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছে মানুষ। গ্যাসের কষ্ট পাচ্ছে। গ্যাস বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচাররা এই প্রাকৃতিক সম্পদের একটি কূপও খনন করেনি বা করতে দেয়নি। বরং তারা সেক্টরটিকে বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল। আমরা সরকারে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশের মাটিতে গ্যাস কূপ খননের কাজ দ্রুত শুরু করবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। যেন গ্যাস কূপের নিয়ন্ত্রণ দেশের মানুষের হাতে থাকে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন এই গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে জাহাজে করে আমদানি করতে হয়। ফ্যাসিবাদ সেই গ্যাস সংরক্ষণের জন্য গত ১৫ বছরে মাত্র দুইটি স্টোরেজের ব্যবস্থা করেছে। তাও এমনভাবে করেছে যেন তাদের লোকজন সেই সুবিধা পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরেকটি জাহাজের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সেটি বাতিল করা হয়েছে। দুটি জাহাজের একটিতে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার কারণে আজকে গ্যাসের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।”
সংকট সমাধান প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, “ইতোমধ্যে এই কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে। আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। বাংলাদেশের মানুষেরা বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন। আমি তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে যেন রক্ষা করা যায়। আশা করছি দ্রুতই মানুষকে এই কষ্ট থেকে বের করে আনতে পারব। তারা যেন কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকতে পারে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









