জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ করা এবং বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের দাবিতে বিভাগে তালা ঝুলিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভাগের ভেতরে অবস্থানরত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান পল সহ অন্যান্য শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় তারা ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘মিডিয়া স্টাডিজের সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত করতে হবে’, ‘কারিকুলাম গ্লোবাল ,ফ্যাকাল্টি কেন লোকাল’, এবং ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে বিভাগকে নিয়ে যেতে হবে’—এ স্লোগান দেন।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) একই দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে দাবিগুলো উল্লেখ করে বিভাগীয় প্রধানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইনজামুল হক অভি বলেন, “তারা প্রায় ১৪ মাস ধরে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছেন। বিভাগের কারিকুলামে কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়ানো হলেও বিভাগের নামে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি না থাকায় চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভাগটি কলা অনুষদের অধীনে থাকায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কিছু চাকরিতে তারা আবেদন করতে পারছেন না।”
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং একাডেমিক পরিচয় ও চাকরির সুযোগের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার দাবি। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হবে এমন আশা প্রকাশ করছি।”
আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মহসিন হক শাহ বলেন, “দাবির যৌক্তিকতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তদন্ত শেষে কমিটিও তাদের দাবির পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে। এরপরও দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।”
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান পল বলেন, “বিভাগের নাম পরিবর্তন ও অনুষদ পরিবর্তনের দাবিকে ১২৯তম বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে যৌক্তিক বলে সমর্থন করেছে। বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।”
আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, “বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাবি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর সিন্ডিকেটের সব সদস্য এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। তার আগে কিছু জানানো সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের ১৪ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









