বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে উপাচার্যসহ সব প্রশাসনিক কার্যক্রমে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (৪ মে) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি বিবেচনায় আমরা ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রমে ফিরছি। তবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আমাদের অসহযোগ আন্দোলন চলবে।’’
শিক্ষকদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৮ মে পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালু থাকবে। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় চলমান সংকটের সমাধান না হলে ১০ মে থেকে নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
এর আগে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ২২ এপ্রিল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমরণ অনশন, কর্মবিরতি, কমপ্লিট শাটডাউন ও অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
গত ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষকদের আন্দোলন থেকে সরে এসে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং চলমান সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ প্রেক্ষিতে ৩ মে অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় ৪ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষক সমাজের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক কার্যক্রমে উপাচার্যের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
শিক্ষকরা আরও জানিয়েছেন, ৮ মে’র সিন্ডিকেট সভায় যদি কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে ১০ মে থেকে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সব মিলিয়ে, আংশিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও সংকট এখনো কাটেনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









