বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের ইতিবাচক আশ্বাসে চলমান ‘অ্যাকাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শনিবার (১৬ মে) শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
একই সঙ্গে, দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সাধারণ ছুটির মধ্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় ক্লাস ও পরীক্ষা চালু রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে স্থবির হয়ে পড়া ক্যাম্পাসে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পদোন্নতির দাবিতে গত ১০ মে থেকে দ্বিতীয় দফায় কঠোর অ্যাকাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষকদের এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন বিভাগের চলমান ৪৬টি চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়, যা শিক্ষার্থীদের তীব্র সেশনজটের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।
ক্যাম্পাসের এই চরম অচলাবস্থার মাঝেই গত ১৪ মে সরকার দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে রদবদল করে। সেই তালিকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ, যিনি এর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে সংকট নিরসনে জরুরি বৈঠকে বসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাদেকুর রহমান জানান, নতুন উপাচার্যের সঙ্গে পদোন্নতি জটিলতার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি দ্রুত ও যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় শিক্ষকরা আপাতত ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদোন্নতি প্রত্যাশী এক শিক্ষক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘আগের প্রশাসনের মতো আবারও যদি দীর্ঘসূত্রিতা করা হয়, তবে আমাদের আন্দোলনের বিষয়ে আবারও ভাবতে হবে।’’
বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ ১৭ মে থেকে টানা ১৯ দিনের সাধারণ ছুটিতে যাচ্ছে। তবে এই ছুটির মধ্যেও ক্লাস-পরীক্ষা সচল রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবুবকর বলেন, ‘‘উপাচার্য পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত হওয়া আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আমরা আশা করব, বর্তমান উপাচার্য ও প্রশাসন সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করে ক্যাম্পাসকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন।’’
অন্যদিকে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন হোসেন বলেন, “সাবেক উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার মধ্য দিয়েই তার প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। নতুন উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রত্যাশিত ছিল।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘‘শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট ও চলমান সমস্যা নিয়ে আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতির বিষয়টিও সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে কথা বলে দ্রুত একটি যৌক্তিক ও নিয়মতান্ত্রিক সমাধানের পথ বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’’
শিক্ষক ও প্রশাসনের এই যৌথ সদিচ্ছার ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক অচলাবস্থা কাটল এবং শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের সেশনজটের হাত থেকে রক্ষা পেলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









