রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর একটি সিসা ও অবৈধ মদের বারে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিসা ও হুক্কা খাওয়ার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আগেই সটকে পড়েছেন সিসা বারের মালিক ও কর্মচারীরা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বনানী ১১ নম্বর রোডের ৪৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ভবনের ৭ম, ৯ম এবং ১৩তম ফ্লোরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ‘রিভেন্স হুক্কা লাউঞ্জ অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নামের একটি সিসা ও মদের বার পরিচালিত হয়ে আসছিল। মোহাম্মদ আসিফ মিটার এক্স নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই ভবনে অবৈধ এই বারটি চালাতেন সাদমান সাকিব নামের এক যুবক।
অভিযান প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব বশির আহমেদের নেতৃত্বে ডিএনসি’র একাধিক টিম এবং অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালীন ওইসব ফ্লোরে তল্লাশি চালিয়ে হুক্কা খাওয়ার ২৪টি পাইপ, ১০০ গ্রাম সিসা, ১টি সিবিআর এবং ২০টি কল্কি জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় মালিক সাদমান সাকিব বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ফলে এই ঘটনায় ডিএনসি টিম তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
অভিযান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব বশির আহমেদ। তিনি বলেন, “আমাদের এই মাদকবিরোধী অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এটি অব্যাহত থাকবে। কোনো অবৈধ সিসা বার বা মদের বার যাতে রাজধানীতে চলতে না পারে, সেজন্য আমাদের টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। আমরা পুরো গুলশান এলাকাকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছি।”
অতীতে এই ভবনে হওয়া বিভিন্ন অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ভবনটিতে এর আগেও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। অনেক ‘আদরের দুলালী’কে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি, দুইদিন পর আবারও এই অবৈধ ব্যবসা চালু করা হয়েছে। তাই এবার আমরা চাচ্ছি যাতে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ করা যায়। সমাজের এই খারাপ কীটগুলো যেন আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে না পারে।”
মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি বশির আহমেদ আরও বলেন, “মাদক দূর করা কেবল আমাদের একার কাজ নয়। আপনারাও (গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ) আমাদের সঙ্গে থাকবেন। আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রথমে পুরো গুলশান এলাকা এবং ধাপে ধাপে সারা দেশকে মাদকমুক্ত করতে চাই। আমাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টিমগুলো ইতিমধ্যেই সারাদেশে গোপন তালিকা তৈরি করছে, খুব শীঘ্রই বড় আকারে অভিযান শুরু হবে।”
এই ঘটনায় বারের মালিক সাদমান সাকিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









