কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বেড়ে গেছে গরু-ছাগল চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবনতা। তাই এবার সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন গ্রামবাসী। বসিয়েছেন পাহারার দল রাত জেগে দল বদ্ধভাবে গ্রামে গ্রামে দেওয়া হচ্ছে পাহারা। আর এতে সহযোগিতা করছেন পুলিশ। এ ছাড়াও গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের দ্বারা গঠিত দল দিয়ে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে শতাধিক অস্থায়ী বাঁশের চেক পোষ্ট। যেখানে সন্দেহ মুলক যানবাহনে করা হচ্ছে জিজ্ঞেসাবাদ।
সরেজমিনে, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাকোইদিঘি,বিরোইল,খালকুলা,নওগাঁ বাজার এলাকায় দেখা যায় এমনই চিত্র।
পুলিশ জানায়,তাড়াশ উপজেলায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরি ঠেকাতে থানা পুলিশের আগাম টহল জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে ৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নয়টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। প্রতিটি টিমে ৬ থেকে ৮ জন সদস্য রয়েছে এবং তারা রাতদিন পালা করে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি খামারিদের পশু নিরাপদে রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
তাড়াশ প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ১০ হাজার ৬৩৪টি গরু, ২ হাজার ৮১৪টি বলদ, ৩ হাজার ৪৫১টি বকনা, ১ হাজার ৭০টি মহিষ, ৪১ হাজার ৭১০টি ছাগল এবং ৩ হাজার ৯২০টি ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৭০৫টি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র ট্রাক, পিকআপ ও ভুটভুটি ব্যবহার করে দ্রুত পশু নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চুরি ঠেকাতে এবার পুলিশের পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে গ্রামবাসির সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









