ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের শীলা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে প্রায় ২৪ দিন আগে। সাঁকোটি মেরামত বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় এখন কলাগাছের ভেলায় চড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন এলাকার লোকজন। এতে রসুলপুর ইউনিয়নের সান্দিয়াইন, পাড়া সান্দিয়াইন ও ছয়ানি রসুলপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৭-৮ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গফরগাঁও উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামগুলোর মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাধা ছিল শীলা নদী। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজেক্টের (এলজিএসপি) আওতায় রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ এখানে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেয়। তবে পাঁচ বছর যেতে না যেতেই ২০১৯ সালে সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর গ্রামবাসী নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল অতিবৃষ্টির কারণে নদীতে পানি ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাঁকোটি ভেঙে নদীতে ভেসে যায়। বর্তমানে এই এলাকার মানুষের সান্দিয়াইন গ্রামের 'শনিরঘাট' দিয়ে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে কলাগাছের ভেলা। গত কয়েক বছরে এই ঘাটে সাঁকো থেকে নদীতে পড়ে চার জনের মৃত্যুর পর থেকে এলাকাবাসী এটিকে শনিরঘাট নামে ডাকেন।
নদীর দুই পাড়ে বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, বালক দাখিল মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কলাগাছের ভেলায় চড়ে আতঙ্কের মধ্যে নদী পার হতে হচ্ছে। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সদরের বাজারে বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও এই ভেলাই এখন একমাত্র ভরসা। বিকল্প হিসেবে ৩ কিলোমিটার দূরের নয়াপাড়া ব্রিজ ব্যবহার করা গেলেও এতে প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা বেশি ঘুরতে হয়, যার সংযোগ সড়কটিও বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সান্দিয়াইন নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান সজিব জানায়, প্রতিদিন ভেলায় চড়ে নদী পার হয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় তাদের খুব ভয় লাগে এবং মা-বাবাও আতঙ্কে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও হাবিবুর রহমান জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে শত বছর ধরে তারা এভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই এখানে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আবু বকর সিদ্দিক জানান, এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









