কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ডাম্পট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক তরুণীসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে একটি গভীর পুকুরে উল্টে পড়ে গেলে এই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া কুটিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুইজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও অন্তত ১০ জন কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী পাংশার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি বালুভর্তি ডাম্পট্রাক (বগুড়া ড ১১-২৭০৩) ও রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে আসা যাত্রীবাহী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৩ ০০৯৩) খোকসার শিমুলিয়া কুটিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি দুইটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দে সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ছিটকে রাস্তার পাশে পুকুরে গিয়ে পড়ে। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের চিৎকার ও আকুতিতে মুহূর্তের মধ্যে মহাসড়কের ওই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা, রশি নিয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
খোকসা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আলতাফ হোসেন বলেন, ‘‘খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসটি পুকুরে উল্টে থাকায় ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’’
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ চেষ্টায় দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও ড্রাম ট্রাকটি সড়ক ও পুকুর থেকে ক্রেনের সাহায্যে উদ্ধার করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘাতক যান দুটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের রুহুল প্রামানিকের মেয়ে রাফিয়া (১৭) ও অজ্ঞাত এক পুরুষ (৫০)। অপরদিকে ঘটনাস্থলে মারা যান খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামের জুনায়েদ আহাম্মেদের ছেলে নাবিলসহ (২৮) আরও একজন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে।
এছাড়াও, বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার কালুখালী এলাকার প্রিয়তোষের ছেলে রবিতোষ (৫০), অজ্ঞাত পুরুষ (৫০), রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মাছপাড়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আনিসুর রহমান (৭০), কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামের লোকমান আলীর স্ত্রী ঝুমা (২৫), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা একতারপুর গ্রামের সুরেন্দ্রের ছেলে সুব্রত (৬০), রাজবাড়ী জেলার শেখপাড়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে শাহীন (৩০), কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ভারোলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রনি (২০), কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী রুপা (৪০), কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ঝাউদিয়া গ্রামের বাহার আলীর ছেলে আবু সাঈদ (২০) ও রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার শিউরি গ্রামের শফি উদ্দিনের স্ত্রী আতশী (৫০) ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের মৃত আজিম প্রামানিকের ছেলে নাজিম প্রামানিক (৫৫)।
শনিবার এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীর সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়রা মহাসড়কে ডাম্পট্রাকের বেপরোয়া গতি ও অদক্ষ চালকদের লাইসেন্সহীন গাড়ি চালানোকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এই মহাসড়কে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









