আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালের আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কাশিগঞ্জ বাজারে প্রচুর গবাদিপশু উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে যেন তিল পরিমাণ জায়গা ফাঁকা নেই। হাটে মাঝারি পশুর চাহিদাই বেশি। একই চিত্র ত্রিশাল উপজেলার বেশ কয়েকটি হাটে।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের ধান পানিতে ডুবে গেছে এবং ধানের তেমন দাম নেই, ফলে কোরবানির হাটে মাঝারি পশুর চাহিদাই বেশি। এবার হাটে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কোরবানির পশু কেনাবেচা হতে দেখা যায়।
কাশিগঞ্জ বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমার গরুটার ওজন ৮-৯ মণ হবে। দাম ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু ক্রেতারা দামই বলছেন না। শুধু দেখে দেখে চলে যাচ্ছে। অন্য গরুগুলো দাম করছে। কিন্তু এটা কেনার মতো ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছি না।”
হাটে গরু বিক্রি করতে আসা জরিনা খাতুন বলেন, “আমার পালিত ষাঁড় গরু হাটে এনেছি। দাম চাচ্ছি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু ক্রেতারা দাম করছেন ১ লাখ ৩০-৪০ হাজার টাকা। সঠিক দাম পেলে বিক্রি করতে পারি। বাজারে প্রচুর গরু উঠেছে, কিন্তু ক্রেতা কম।”
ক্রেতারা বলছেন, কোরবানির পশুর দাম বেশি হাঁকা হচ্ছে। যে গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা সেই গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১১০-১২০ হাজার টাকা।
গরু কিনতে আসা মোস্তাকিম আহমেদ বাবু জানান, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনলাম। দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। হাটে প্রচুর গরু উঠলেও দালালদের কারণে দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
কাশিগঞ্জ হাটের গরু ব্যবসায়ী হজুল বেপারী বলেন, “ক্রেতাদের চাহিদা মাঝারি মাপের গরু। এ হাটে ৮০ হাজার থেকে লাখ টাকার মধ্যে গরু কেনাবেচা হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষের অভাব যাচ্ছে। আগে আমরা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ পর্যন্ত গরু বিক্রি করতাম কোরবানির সময়ে। এখন লাখ টাকার ওপরে ক্রেতা সেরকম পাওয়া যায় না। অর্থ মন্দা যাওয়ায় এলাকার মানুষেরা মাঝারি সাইজের গরুই কিনছেন।”
জুলহাজ নামে এক ক্রেতা বলেন, “১২ হাজার টাকা দিয়ে খাসি কিনলাম। প্রচুর ছাগল উঠেছে হাটে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









