গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টোক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রবিবার (৭ জুন) দিবাগত রাতে টোক ইউনিয়নের বনিকপাড়ায় কয়েকটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে বাড়ির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী কিংকর বনিক জানান, তার বাড়ি থেকে পানির পাম্পের বৈদ্যুতিক তার, টিউবওয়েলের যন্ত্রাংশ এবং একটি সোলার ব্যাটারি চুরি হয়েছে। এছাড়া জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আরও কিছু মালামাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
একই এলাকার বাসিন্দা কনক বনিকের বাড়ি থেকেও টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী চুরি হয়েছে।
অপর ভুক্তভোগী সংকর বনিক বলেন, ‘‘তার ঘরের জানালা ভেঙে সোলার ব্যাটারি, পানির কেটলি এবং অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে গেছে চোরেরা।’’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় কিছু মাদকসেবীর অবাধ বিচরণের কারণে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’’
এদিকে উপজেলার উলুসারা গ্রামে আরও গুরুতর একটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে দুদু মিয়ার বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে একদল ডাকাত। এ সময় বাধা দিতে গেলে কালামের ছেলে শান্তকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উলুসারা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব জানান, ডাকাতরা একটি দোকান ও বাড়ি থেকে টেলিভিশন, আইপিএসের ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরা, ভোজ্যতেল, সাবান, সিগারেট, শিশুখাদ্য, টুথপেস্ট, পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য লুট করে নিয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ টাকারও বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন বলেন, ‘‘উলুসারা গ্রামে রাতে সিঁধ কেটে চুরির একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’’
টোক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম কবির বলেন, উলুসারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চুরির ঘটনা ঘটছে। একই দোকানে একাধিকবার চুরি হয়েছে বলেও তিনি জানান। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় পর্যাপ্ত পুলিশি টহলের অভাব এবং মাদকসেবীদের উৎপাতের সুযোগে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









