২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনীতিতে কোনো বাস্তব সংস্কার আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজেটে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, দেশের বিদ্যমান রাজস্ব কাঠামোর মাধ্যমে এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।
সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কারের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু উপস্থাপিত কাঠামোতে সে ধরনের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
তবে কিছু ইতিবাচক দিকও উল্লেখ করেন তিনি। কয়েকটি খাতে কর কমানো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি—এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার দাম বাড়ানো নজিরবিহীন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত জনভোগান্তি বাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেটের সঙ্গে দুর্নীতির সুযোগও বাড়ে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বরাদ্দ বণ্টনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ বণ্টনে বৈষম্য রয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিরা সুবিধা পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজেটে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









